প্রচ্ছদ জাতীয় ১৩ বছরের পিচ্চিটার টিকটক আইডি যারা দেখছেন, তা

১৩ বছরের পিচ্চিটার টিকটক আইডি যারা দেখছেন, তা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তে এখন সামনে আসছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অপ্রতীম কার সঙ্গে মিশত, তার চলাফেরা কেমন ছিল, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার সঙ্গে কারা ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীবনযাপনের যে চিত্র দেখা যায়, তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক কতটা ছিল?

অপ্রতীমের টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ভিডিও দেখে অনেকেই তার বয়স অনুযায়ী জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দামি স্মার্টফোন, মোটরসাইকেল, বয়সে বড়দের সঙ্গে ওঠাবসা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ—এসব একজন কিশোরের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও এখন আলোচনায় আসছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কৈশোর এমন একটি সময় যখন আত্মপরিচয়, স্বীকৃতি, বন্ধুদের প্রভাব এবং ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বয়সে সন্তানের সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ, বন্ধুবান্ধব ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কোনো একটি জীবনযাপন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখেই একটি শিশুর আচরণ কিংবা তার পরিবারের দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুহিন ও আনাছ নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তারের কথাও বলা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা কীভাবে জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়তো এখানেই—সন্তানকে শুধু দামি মোবাইল, বাইক বা প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়াই দায়িত্ব নয়; তার সঙ্গে সময় কাটানো, কার সঙ্গে মিশছে তা জানা, অনলাইন জগতের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াও অভিভাবকত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য তদন্তে বেরিয়ে আসুক—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তার হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। টাকা দিয়ে অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক, সময় আর সঠিক দিকনির্দেশনা কেনা যায় না।