প্রচ্ছদ জাতীয় অপ্রতিমকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, এরপরই পুলিশের হাতে আটক

অপ্রতিমকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, এরপরই পুলিশের হাতে আটক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে আজ।

এ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

তবে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়ার আগে আনাস আজ সন্ধ্যায় অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিল। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের একটি সংবাদ শেয়ার করে সে দুঃখপ্রকাশ করে।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে সন্দেহভাজন আনাস লিখেছে, ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামী জিনিস,তার জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ।

এসময় সে আরও বলে, আল্লাহ তার মা,বাবাকে ধৈর্য ধারন করার তৌফিক দান করুক।

অপ্রতিমের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করে আনাস বলে, মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।

এই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার পরই আনাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপরই আনাসের এই পোস্ট আলোচনায় আসে। ইতোমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে আনাসের দেওয়া এই পোস্ট।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তাঁর বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।