
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন – তুহিন, ফাহিম ও আনাস।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের ইতিহাসে লজ্জাজনক ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এ এলাকার এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত। আমরা এ সমস্ত বাচ্চাদেরকেও রক্ষা করতে পারলাম না। মৃত্যু মানুষের হয়, কিন্তু এ রকম করুণ মৃত্যু কখনো দেখি নাই। নিষ্পাপ ছোট বাচ্চা। কী অপরাধ ছিল তার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি। একটা আইফোনের জন্য একটা মাসুম বাচ্চাকে মানুষ এভাবে মারতে পারে। আমি কল্পনা করি নাই। কী দেশ বানাইলাম। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি লজ্জিত, জাতির কাছে আমি ক্ষমা চাই।’
আমি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি, কিন্তু কী জবাব দেব আমি জানি না বলেও অঝোরে কাঁদতে থাকেন এমপি মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা বিদেশ থেকে টেলিফোনে জিজ্ঞেস করছে- বাবা এটা কী হলো? আমার কোনো জবাব নাই, আমি শুধু বলবো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি দেখুন, এদের হাত থেকে কিশোরদেরকে রক্ষা করুন।’
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে জানায় তার পরিবার। শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।













































