
ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে এসেছে, কীভাবে বাঁশ সংগ্রহ করতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অপ্রতীমকে দেখতে পান তারা। পরে শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়দের জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
মো. আব্দুল কাদির জিলানী নামে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম কাজ করতে। কাজের মাঝে আমাদের বাঁশের প্রয়োজন হয়। তখন এই বাঁশ সংগ্রহের জন্য এই দিক দিয়ে গেলে আমার সঙ্গে থাকা ভাতিজা আমাকে বলে- কাকা এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, তখন আমি এখানে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। এরপর আমরা ভয়ে কাজ ফেলে চলে যাই।
মো. আব্দুল কাদির জিলানী বলেছেন, কিছুক্ষণ পর আমরা শুনতে পাই- ম্যাডামের বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমরা জানাই যে সেখানে একটা বাচ্চা দেখে এসেছি, সে এখনো সেখানেই পড়ে আছে। তখন সবাই আমাকে এখানে নিয়ে আসে। আমরা আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে বাচ্চাটিকে দেখতে পাই।
আইফোন নিয়ে নিখোঁজ কুবি শিক্ষকের ছেলের মরদেহ উদ্ধার
ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত কি না- এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে একটি টিলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তার মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটি তার পরনে ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নেই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।’
এ ঘটনায় তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
এদিকে, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তার স্বজনরা।












































