বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধে জড়িত সেই কর্মকর্তার পদোন্নতি

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী সরকারের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তার অনেকেই পাচ্ছেন পদোন্নতি। এমনই একজন টেলিকম ক্যাডারের কর্মকর্তা মির্জা কামাল আহম্মদ।

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে কামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একাধিকবার হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এবার পেলেন পদোন্নতি।

বর্তমানে মির্জা কামাল আহম্মদ বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) পদে কর্মরত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে টেলিকম ক্যাডারের ২০ জন কর্মকর্তাকে একযোগে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া পদোন্নতির তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে মির্জা কামাল আহম্মদের নাম। পদোন্নতি পেয়ে এই কর্মকর্তা পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) চতুর্থ গ্রেড থেকে জিএম (ইঞ্জিনিয়ার) তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িতের থাকার অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি সাবমেরিন কেবলে কোম্পানির এমডির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মির্জা কামালের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ। নানা অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। জুলাই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ২২ দিন নানা স্তরে ইন্টারনেট শাটডাউন করে তৎকালীন সরকার। এক অদৃশ্য ‘তথ্য-অন্ধকার’ সৃষ্টির মাধ্যমে গণহত্যা চলে।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই গণহত্যার মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার করা হলেও, ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত অনেক সরকারি ককর্তার বিরুদ্ধে।

সেই সময় জুনাইদ আহমেদ পলককের নির্দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করেছিলেন সরকারি সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসপিএলসি) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহম্মদ। এই অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাকে কয়েকবার ডাকা হয়।

ট্রাইব্যুনালকে কামাল আহম্মদ বলেন, ‘১৮ জুলাই রাতে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আমাকে ফোন দিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশনা দেন, তার নির্দেশে ১৫ মিনিটের মধ্যে সাবমেরিন দুটো শাটডাউন করা হয়।’

ট্রাইব্যুনালকে জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার কথা জানালেও, বিএসসিপিএলসির অনেকের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশ ছাড়াই শুধু পলকের মৌখিক নির্দেশে তিনি দেশের দুটি সাবমেরিন কেবল বন্ধ করেন। বরং আওয়ামী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই তিনি ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ক্ষমতার বলে তিনি নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ইন্টারনেট শাটডাউন ছাড়াও সাবমেরিন কেবলের এমডির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মির্জা কামালের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ। তিনি ২০১৬ সালে টেলিকম ক্যাডার থেকে প্রেষণে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে বিএসসিপিএলসিতে যোগ দেন। ক্যাডার সার্ভিসে কোনো পদোন্নতি না পেলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি জোর তদবির চালিয়ে উপমহাব্যবস্থাপকের পরিবর্তে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে প্রেষণাদেশ করিয়ে জিএম (প্রশাসন ও অর্থ) পদটিতে চেপে বসেন।

অন্যদিকে বিএসসিপিএলসিতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৯ সালে কোম্পানিতে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করা অনেক কর্মকর্তা গত ১৭ বছরেও মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পাননি, একই পদে স্থবির হয়ে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মহাব্যবস্থাপক পদে থেকে মির্জা কামাল কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে এফডিআর বাণিজ্য ও কোম্পানির বিপুল পরিমাণ বকেয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মির্জা কামাল যখন বকেয়া আদায় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন, তখন দুই বছরে কোম্পানির বকেয়া বাড়ে ১৬০ কোটি টাকা। বকেয়া আদায় না করলেও নিয়মিতই বকেয়া আদায়ের সভা করতেন মির্জা কামাল এবং ৮০টির বেশি সভায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি সম্মানী নিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

অন্যদিকে কোম্পানির ব্যাংকিং ও ইনভেস্টমেন্ট পলিসি না মেনে নিজস্ব স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। শুধু এস আলমের ঝুঁকিপূর্ণ তিন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

মির্জা কামাল এমডি থাকায় অবস্থায় সাবমেরিন কেবল কোম্পানির আয় ও মুনাফায় ধস দেখা দেয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মির্জা কামাল এমডি থাকা অবস্থায় কোম্পানির আয় (রেভিনিউ) কমে দাঁড়ায় ৩৯৮ কোটি টাকা, যা ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ছিল ৫১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১১৩ কোটি টাকা। আয় কমে যাওয়ায় ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিএসসিপিএলসির নিট মুনাফা কমে দাঁড়ায় ১৮২ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমে ৯৭ কোটি টাকা।

এমন একজন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারাও। কীভাবে এবং কার তদবিরে তিনি এই পদোন্নতি পেলেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে উঠছে প্রশ্ন।

এর আগে জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ এবং বিএসপিপিএলসিতে থাকা অবস্থায় নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে মির্জা কামালকে সাবমেরিন কেবলের এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এমডি পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও কোনো কার্যকর শাস্তির আওতায় আনা হয়নি এই কর্মকর্তাকে।

সম্প্রতি তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার পর সাবমেরিন কেবলের এমডি পদে ফিরতে জোরালোভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত মির্জা কামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মির্জা কামাল আহম্মদের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ আবার কল দিলে কল ঢুকলেও তিনি কেটে দেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের উত্তর জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।

কী ঘটেছিল আপিল বিভাগে

আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর পরই একটি মামলায় আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে আপিলকারী ও আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা (খরচা আরোপ) করা হয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই চলছিল অন্য মামলার কার্যক্রম। দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের একটি মৌখিক আবেদন ঘিরে তৈরি হয় বিতণ্ডা। খোকন সকালে আইনজীবীকে করা জরিমানা মওকুফ করার আর্জি জানান আপিল বিভাগের কাছে। তার এই মৌখিক আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী জানিয়ে দেন আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা পরিবর্তন হবে না। তখন মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি দায়িত্ব নেয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। বার সভাপতির এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি খোকনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যা বলেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল।

আপনি যেহেতু এত বড় কথা বলেছেন, আজকে আমি আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। এরপর প্রধান বিচারপতি ও অন্য চার বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় আপিল বিভাগের কার্যক্রম। পরে ঘটনার বিষয়ে বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল পৃথক ব্রিফ করেন। এ ঘটনা ঘিরে গতকাল নানা আলোচনা ছিল আদালত অঙ্গনে। আপিল বিভাগে এ ধরনের ঘটনা এর আগে ঘটেছে এমনটি স্মরণ করতে পারেননি সিনিয়র অনেক আইনজীবী।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রম চলার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকতে পারেন না। সাংবাদিক সংগঠনগুলো বারবার দাবি জানালেও প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত হয়নি। সাংবাদিকরা উপস্থিত না থাকায় দুই পক্ষের বক্তব্য এবং আইনজীবীদের বর্ণনা থেকেই ঘটনার বিষয় জানা যায়।

সকাল সাড়ে ৯টার পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি উপস্থিত ছিলেন।
কার্য তালিকার প্রথমেই ছিল যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট সংক্রান্ত আপিলের আইটেম। আপিলকারী মোহাম্মদ নুর আলম তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক রিট আবেদন দায়ের করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণার তথ্য তুলে ধরেন সরকার পক্ষের কৌঁসুলিরা। এই অভিযোগে রিটকারী মোহাম্মদ নুর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পৃথকভাবে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা খরচা আরোপ করেন আপিল বিভাগ। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

আপিল আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ মামলার সূত্রপাত। যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নম্বর ১৪৮২১। সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করার আবেদন করা হয় এবং স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল চাওয়া হয়। ওই মামলায় নূর আলম হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। আপিল বিভাগ অস্থায়ী নিয়োগ বাতিল করে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বহাল রাখার আদেশ দেয়। এরপর ২০১৮ সালে ১৬০৮৮ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করে ২০২১ সালে ১১৪৪৬ নম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৬৩১ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। এসব মামলার কোনোটিতেই আগের মামলার আদেশ এবং আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে বলা হয়নি। এর মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার আবেদন আনা হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি একদিনে নিষ্পত্তি হয়নি। টানা ৩ দিন শুনানি হয়েছে। শুনানির সময় আপিল বিভাগের রেকর্ড ও পুরনো ফাইল তলব করে দেখা হয়, একই বাদী ও একই আইনজীবী পর পর একাধিক রিট আবেদন করেছেন এবং আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রিট আবেদনকারী এবং তার আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এসব মামলায় ফাইলিং আইনজীবীর সিনিয়র হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

অনীক আর হক বলেন, জরিমানা করার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আদালতের আদেশ মেনে নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ব্যারিস্টার খোকন বিষয়টি নিয়ে আদালতে কথা বলেন। তখন ওই নারী আইনজীবী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

আপিল বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলার বাদী পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে। …পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন অথচ পূর্বে রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে নারী আইনজীবীকে আজ আপিল বিভাগ ফাইন করেছেন পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা, যে টাকা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সকালে যখন আদেশ হয়, তখন নারী আইনজীবী আমার পাশে বসে আদেশটি শুনেছেন, উনার স্বামীও আমার পাশে বসা ছিলেন। কিন্তু আদেশ দেয়ার সময় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আইনজীবী সুফিয়া আহমেদ তখন আমার পাশে বসেছিলেন এবং বারবার বলছিলেন, খোকন ভাই আমাকে কী বিপদে ফেলল। ওই মামলায় সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদেশ হয়। আর এ ঘটনার (এজলাস ত্যাগ) অবতারণা হচ্ছে ১২টা ৩৫ মিনিটে। অন্য একটি মামলার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই প্রসঙ্গে (খরচা আরোপ) বললেন যে একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, দেখেন, আমরা সবকিছুতে দেখে শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না। কারণ, ওনাদের (আদালত) বক্তব্য অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড করা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিপূর্বের আদেশও ফ্রড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বললেন, আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) এটা বলবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলে ফেললেন যে আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। বিষয়টি প্রধান বিচারপতি একটু লাইটলি নিলেন। তারপরে বললেন, আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) কি এটা মিন করেন? মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা সেই একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে আপনি (খোকন) যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। এ কথা বলে উনি (প্রধান বিচারপতি) উঠে (এজলাস থেকে) গেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা প্রাধান্য দেন। কোনো প্রতারণা যদি দেখেন, তা সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন) করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকদের ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য হতে পারে, কিন্তু তা সাধারণত আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।

ঘটনার বিষয়ে যা বলেন ব্যারিস্টার খোকন: ঘটনার পরে ব্যারিস্টার খোকন সাংবাদিকদের বলেন, অন্য একটি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর ৫ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, একজন জুনিয়র ল’ইয়ার, ৫ লাখ টাকা কস্ট দেয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেয়া দরকার। বিষয়টি তিনি ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থেই’ বলেছেন বলে উল্লেখ করেন খোকন।

তিনি বলেন, মামলায় আইনজীবীর জয়-পরাজয় হতে পারে, কিন্তু জুনিয়র আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো।

খোকন আরও বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত মামলা শুনানি হত। এখন একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে এবং চেম্বার আদালত থেকে কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ হলে পরে সেটি শুনানির জন্য আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ সময় নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই মামলায় সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। কিন্তু মামলাটি এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও মামলাটি শুনানি করাতে পারিনি।
ব্যারিস্টার খোকন দাবি করেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলা তার দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমি তো চিন্তা করি নাই যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। উনারতো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আর ল’ইয়ারদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমার অবলিগেশন আছে উনার কাছে ল’ইয়ারদের পক্ষে আবেদন করার।

পাপ বাপকেও ছাড়ে না, ২৬ বছর আগের সেই ঘটনায় ১০৪ বছরে কারাগারে বৃদ্ধ

কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে উচ্চ আদালতের ১০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন নুর মোহাম্মদ। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।’

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের বড় বাজারস্থ এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়াও জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।

আজ মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি জানান, তার বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেছেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে মামলায় নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপির সদস্য পদ বহাল থাকবে

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তাকে সংসদের কোনো কমিটিতে রাখা হবে না।

সোমবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে শুধু সেই কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বা নিজে থেকে দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হতে পারে।

তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম যেহেতু দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা যদি ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে কোনো চিঠি না দেন, তাহলে তাঁর আসন শূন্য করার সুযোগ নেই।

তবে বিরোধীদলীয় নেতার সম্মানের কথা বিবেচনা করে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা চাইলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই সংসদ সদস্যের আসন শূন্য করার জন্য সংসদে চিঠি দিতে পারেন। তিনি এমন চিঠি না দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কোনো সুযোগ নেই।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সেখানে নেই বলে তিনি মনে করেন। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্যাখ্যা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে তিনি যে নৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটিকে সমর্থন করায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান শফিকুর রহমান।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না!

সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ নেই। এছাড়া একগুচ্ছ তথ্য সংযুক্ত করেছে ইসি।

সম্প্রতি ইসির স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের এ প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পৌছেছে।

প্রস্তাবে হলফনামায় নতুন তথ্য দেওয়া, অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ বেশকিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পেলে ওই নির্বাচন বন্ধের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়নি কমিশন। ইসি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে স্থানীয় সরকার আইনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অযোগ্যতা উল্লেখ থাকে।

নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের মতে, ইসির নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ কিছুটা হলেও তৈরি হবে। অবশ্য ইসি বলছে, পলাতকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বন্ধ করা হয়। এরই অংশ হিসাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে। ফলে নির্বাচনে বাধা দিয়ে কারও প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ করা কঠিন হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি অপরাধে সাজা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি মাসে কিছুসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এবারও ধাপে ধাপে এ ভোট হবে। প্রথম পর্যায়ে উপকূলীয় জেলা বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। শিগ্গিরই কমিশন সভায় কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে কবে ভোট হবে, তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনের আইনের সংশোধনী এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধির সংশোধনীর প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনে প্রায় একই ধরনের সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে ইসি। চূড়ান্ত প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নাম বহাল রাখা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। একইভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিতে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। যদিও জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করেছে। ইসি তাদের চূড়ান্ত প্রস্তাবে ওই বিধান বহাল রেখেছে। ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে ওই ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও হলফনামা যাচাই করা হবে কোন প্রক্রিয়ায়, তা পুরোপুরি পরিষ্কার করেনি।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনি অপরাধের সাজা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনি অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কেও নতুন বিধান যুক্তের প্রস্তাব করেছে ইসি। এতে পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বিধান আনা হয়েছে। তবে কোনো কারণে ওই সময়ে ভোট করা সম্ভব না হলে ইসি সুবিধাজনক সময়ে ভোট করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব আইনের সংশোধনী সংসদে পাশ হতে হবে। চলতি অধিবেশনে এসব সংশোধনী সংসদে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সংশোধনী পাশ না হলে বিদ্যমান আইনে নির্বাচন হবে।

ভাইরে ভাই! নিজের দলের মন্ত্রীদেরই ধু-য়ে দিলেন স্পিকার…Seemore

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরলভাবে দুঃখপ্রকাশের প্রশংসা করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তবে বিদ্যুৎ না থাকা ও লোডশেডিং নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত নোটিশের ওপর আলোচনার শেষে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৬৮ বিধিতে নোটিশটি উত্থাপন করে বিরোধী দল।

কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে শোনা যায়, ‘তার লম্বা, এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেছে।’ এ ধরনের ব্যাখ্যার পরিবর্তে সমস্যাটি পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।

অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

৬৮ বিধিতে দেয়া নোটিশের ওপর বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন।

আলোচনার শেষে ডেপুটি স্পিকার বিদ্যুৎ মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দুঃখপ্রকাশ করেন। বাট আনফরচুনেটলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যারা থাকেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সেই জিনিসটা সেভাবে অ্যাড্রেস করেন না। আমরা হাম্বলি রিকোয়েস্ট করবো, জাতির সামনে যদি প্রকাশ করেন এবং ক্লিয়ার রাখেন, তাহলে ভালো হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই জিনিসটাকে অ্যাড্রেস করেন, সাবমিসিভ ওয়েতে অ্যাকনলয়েজ করেন, দুঃখপ্রকাশ করেন। আর মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি- তার লম্বা, এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেছে।

৬৮ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেয়া নোটিশে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, দেশে তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শহর ও গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।

তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছেন। উৎপাদন ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় এই সংকট মোকাবিলা, শিল্প-বাণিজ্য রক্ষা এবং বেকারত্ব রোধে সরকারের পদক্ষেপ ও করণীয় নির্ধারণে বিষয়টি সংসদে অবিলম্বে আলোচনার দাবি জানান তিনি।

গত ২৭ আগস্ট দেয়া এই নোটিশে শফিকুর রহমানের সঙ্গে নোটিশদাতা হিসেবে রয়েছেন আরও পাঁচ সংসদ সদস্য। তারা হলেন- গাজীপুর-৪ আসনের সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মো. রুহুল আমিন, খুলনা-৬ আসনের মো. আবুল কালাম আজাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের মো. মাহবুবুল আলম এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনের মো. কামরুল হাসান।

ইসলামী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

Oplus_131072

সংসদে শরিয়াহবিরোধী আইন পাস হয়েছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দাবিতে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। একই বিষয়ে শরিয়াহ ও সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করবে তারা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

সভায় মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করতে রাষ্ট্র বাধ্য। বর্তমান সরকারও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে নির্বাচনের আগে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে আইনটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে দলটি।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং যুগসেরা ওলামায়ে কেরাম রয়েছেন। এ আইনের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম আগেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সেখানে শরিয়াহ-সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে শরিয়াহবিরোধী আইন প্রণয়ন করা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞানীয় সম্পদের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা।

এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারের কাছ থেকে আশা করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসূচি ঘোষণা করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আগামী শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শরিয়াহ ও দলের অবস্থান জানাতে আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মুফতি আহমদ আব্দুল জলিল, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মোমেনশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা প্রভাষক মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার, কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

লং মার্চের পর অবশেষে মেনেই নিলেন জামায়াতের আমির…Seemore

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে তিনি বলেছেন, সরকার সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলেও জনগণের দুর্ভোগ দিন দিন কমছে না, বরং বাড়ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের বিষয় ছিল তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের এবং ধারাবাহিকভাবে চলে আসা সমস্যা পুঞ্জীভূত হয়ে এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশ সবার, তাই দেশের সংকট সমাধানে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে মূলত তিন ধরনের গ্রাহক রয়েছেন। বড় একটি অংশ হলো ডোমেস্টিক বা গৃহস্থালি গ্রাহক, যারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়টি হলো কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক গ্রাহক। আর তৃতীয়টি হলো তুলনামূলকভাবে বিশেষায়িত ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাহক, যারা শিল্প খাতে রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, গত তিন বছরে এ সংকটের কারণে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, এসব কারখানার ৪০০ বা তার বেশি উদ্যোক্তা, কিংবা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা ঋণখেলাপি হয়েছেন। একজন ঋণখেলাপি হলে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক থেকেও নতুন করে ঋণ নিতে পারেন না। ফলে তার পুরো ব্যবসার চাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
আরো বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, গত তিন বছরে এ সংকটের কারণে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, এসব কারখানার ৪০০ বা তার বেশি উদ্যোক্তা, কিংবা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা ঋণখেলাপি হয়েছেন। একজন ঋণখেলাপি হলে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক থেকেও নতুন করে ঋণ নিতে পারেন না। ফলে তার পুরো ব্যবসার চাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

‘এর সাথে লাখ লাখ শ্রমিকের বিষয়টি জড়িত। যখন জ্বালানির অভাবে কারখানার উৎপাদন কমে যাবে-সম্প্রতি এর একটি উদাহরণ দেয়া যায়। বিজিএমইএর বর্তমান কমিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে তাদের উদ্বেগ ও দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে বর্তমানে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।’

জামায়াত আমির বলেন, উৎপাদন যদি ৫০ শতাংশে নেমে আসে, তাহলে কারখানাগুলো বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। ক্রেতারাও দীর্ঘদিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে না; তারা বিকল্প উৎস খুঁজে নেবে। একবার তারা অন্য উৎসে চলে গেলে আবার ফিরে আসাটাও সহজ নয়। এ কারণে আমরা একদিকে রপ্তানি হারাচ্ছি, অন্যদিকে শিল্পকারখানা চালাতে না পারায় মালিকদের বাধ্য হয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় তা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এমনকি নাম উল্লেখ না করেই বলতে চাই, এই সংসদেও অনেক শিল্প উদ্যোক্তা বা মালিক রয়েছেন, যারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারাও নিজেদের কারখানা থেকে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন। এটি তাদের ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয়; বরং একান্ত অপারগতার কারণে তারা কারখানা চালাতে পারছেন না। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শিল্প খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
এর উত্তর হলো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় উৎপাদন করতে পারছে না, সরবরাহও করতে পারছে না। তারা কেন পারছে না? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে। কিন্তু তাদের হাতে সেই অর্থ তুলে দেয়া যাচ্ছে না। তারা যদি টাকা না পায়, তাহলে উৎপাদনের চাকা চালু রাখবে কীভাবে? তাদের অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে? স্বাভাবিকভাবেই এখানে একটি বড় প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে। এই ৫৯ হাজার কোটি টাকা গত ছয় মাসের হিসাব নয়। অতীত থেকে চলে আসা বকেয়া ক্রমাগত জমে এর পরিমাণ এত বড় হয়েছে।’

‘আমাদের জ্বালানি উৎপাদনের মূল উৎস হলো গ্যাস। এরপর রয়েছে তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এছাড়া আমাদের ছয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে বড়পুকুরিয়া নিজেদের উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সেখানে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কয়লা উত্তোলন হয়। আমরা দেখেছি, বিগত সরকারের সময়ে সেখান থেকে হাজার হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। এর কোনো জবাবও পাওয়া যায়নি-কোথায় গেল সেই কয়লা? যেহেতু সেখানে অতিরিক্ত কয়লা রয়েছে, সেটি দিয়ে অন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যাকআপ দেয়া যায় কি না, সে বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না, কিংবা এ নিয়ে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা কারিগরি সমীক্ষা হয়েছে কি না-তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’

বিরোধীদলের এই নেতা বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা মূলত দুটি উৎস থেকে গ্যাস পেয়ে থাকি। একটি হলো দেশিয় উৎস, অন্যটি আমদানি করা গ্যাস। একসময় আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ, আর ৮০ শতাংশ আসত দেশিয় উৎস থেকে। কিন্তু এখন আমদানি নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। এর কারণ হলো, আমাদের গ্যাসকূপগুলো এখন আগের মতো চাপ বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। আবার নতুন কূপ থেকে গ্যাস আহরণ ও উত্তোলনের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, সেটিও দীর্ঘদিন নেয়া হয়নি।’

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরার পরিকল্পনা হাসিনার!

আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের নেতাদের বরাত দিয়ে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতের পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নেতা আব্বাস চৌধুরী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেখ হাসিনা নয়া দিল্লিতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে তার দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করবেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ।

গত রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। আমাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হতে পারে। তবুও দেশের মানুষের স্বার্থে আমাকে ফিরতেই হবে।’

আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা বলে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত দলটির প্রায় ৬০ জন নেতা ইতিমধ্যে কলকাতায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি অনলাইনে দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।

আব্বাস চৌধুরী দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নেতারা ডিসেম্বরের আগেই কলকাতায় তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরবেন।

বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তারা বিদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের নিয়ে দেশে ফেরার জন্য চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করবেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে ফেরার কথা বলেছেন, তাই তিনি ফিরবেন। আমাদের ভাগ্যে যা-ই থাকুক না কেন, আমরাও ডিসেম্বরের মধ্যে তার সঙ্গে ফিরতে চাই।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরার কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে ফিরতেই হবে। নিশ্চয়ই নেত্রীর কোনো পরিকল্পনা আছে। তার নির্দেশই আমাদের জন্য চূড়ান্ত।’

সরকার হাসিনাকে ফিরতে দেবে কি না কিংবা ভারত তার প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা করবে কি না—তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছে এবং বিশ্বের নেতাদের কাছে তা পৌঁছেছে। তারা বলেন, দলের কয়েকটি টিম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। শেখ হাসিনা নিজেও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা ও সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তারা আরও জানান, বাংলাদেশ যদি তার প্রবেশে বাধা দেয়, তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি যেখানে অবস্থান করছেন সেই নয়া দিল্লিতে ফিরবেন না। বরং তিনি পশ্চিমবঙ্গে থেকে যাবেন এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘১৯৮১ সালেও শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফিরেছিলেন। এবারও তিনি ফিরবেন।’

তিনি আরও বলেন, যেসব নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার নির্দেশ মানবেন না, তারা দলে থাকতে চান না বলেই ধরে নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দিল্লি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তিনি নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার এবং আজমিরে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ জিয়ারত করার পরিকল্পনা করছেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট দিল্লিতে পালিয়ে যান হাসিনা। শুরুতে চুপ থাকলেও পরে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন, অনলাইনে সভা করেন এবং দিকনির্দেশনা দেন।

এরপর থেকে তিনি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

দিল্লিতে তার এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা ইস্যুটি সামনে চলে আসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও ভারত সফর স্থগিত করেন।

শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে শেখ সেলিম দলের নেতৃত্ব দেবেন—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে অন্তত ছয়জন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠতম সদস্যই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। কাজী জাফরউল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান ও শাহজাহান খান কারাগারে রয়েছেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও খায়রুজ্জামান চৌধুরী লিটন বাংলাদেশের বাইরে আছেন।

দলীয় নেতাদের মতে, হাসিনার অনুপস্থিতিতে দেশে অবস্থানরত জ্যেষ্ঠতম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেবেন। দলটি একজন মুখপাত্রও নিয়োগ দেবে।

মৃ’ত্যু ছাড়া কেউ আমাকে সরাতে পারবে না, রাতেই বিএনপি নেতার মৃ’ত্যু

চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করেছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন।

গণসংযোগের সময় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ছিল, শেষ পর্যন্ত হয়তো তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতাকর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে খোকন বলেন, ‘আমার মৃত্যু ব্যতীত কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’

গণসংযোগ শেষে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শরীরে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাইফুল ইসলাম খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজান।

সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ফজরের নামাজের পর মসজিদের মাইকে তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হলে শুহিলপুরসহ আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। আকস্মিক এ মৃত্যুতে নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...