প্রচ্ছদ জাতীয় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন ইশরাক হোসেন

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন ইশরাক হোসেন

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে রোববার রাতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরকে গুজব বলে দাবি করেছিলেন ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা।

এদিকে, ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে ডেকে পাঠান এবং তাকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত না থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার কাছে পদত্যাগপত্রও চাওয়া হয়।

শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর ইশরাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কক্ষে যান। ওই কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি পদত্যাগপত্রের খসড়া তৈরি করেন। ডেইলি ওয়াদা গত রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন ইশরাক?

শফিকুল আলম তার পোস্টে আরও দাবি করেন, পদত্যাগপত্রের খসড়া তৈরির পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ইশরাক সিদ্ধান্তটি বদলানোর জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনভর ব্যস্ত ছিলেন এবং রাত প্রায় ১১টার দিকে দিনের কাজ শেষ করেন। এর মধ্যেও কেউ কেউ আশা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন। তবে শফিকুল আলমের মন্তব্য, তারেক রহমান কম কথা বলেন এবং আবেগ প্রকাশেও সংযমী।

ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তার দেওয়া আগের রাতের বিবৃতিকে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের শেষ মুহূর্তের চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একবার সিদ্ধান্ত নিলে সেখান থেকে ফিরে আসার সুযোগ থাকে না।

আগের রাতে পদত্যাগের খবরকে ‘গুজব’ দাবি

এর আগে রোববার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবরকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ কিংবা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে প্রচারিত সংবাদ সত্য নয়।

তবে সোমবার সকালে ইশরাক নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।