
ভারতে বিদেশি সংবাদদাতাদের একটি ক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পর শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। গণহত্যার অভিযোগের মুখে থাকা শেখ হাসিনাকে কীভাবে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় অসন্তোষ জানানো হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেছেন, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া কোনো বক্তব্য ভারত সরকার সমর্থন করে না।
শুক্রবারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির আলোকে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সব ধরনের কর্মকাণ্ড ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাটি দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।











































