প্রচ্ছদ জাতীয় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে মো. সাহাবুদ্দিন, যা বললেন হাইকোর্ট

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে মো. সাহাবুদ্দিন, যা বললেন হাইকোর্ট

ইসলামী ব্যাংকের কথিত ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্স সরাসরি জড়িত বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

হাইকোর্টে দাখিল করা বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি কোম্পানি মোট ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিনের মালিকানাধীন জেএমসি বিল্ডার্সও রয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ওই ঋণের অর্থ এখনো ইসলামী ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়নি।

এদিকে, কয়েকদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ ত্যাগ করলে মো. সাহাবুদ্দিনও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তবে এতদিন দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার পর শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করেন।

সূত্র : বাংলা ভিশন