প্রচ্ছদ জাতীয় ভারতের লাল কার্ড পরোয়া করে না জামায়াত

ভারতের লাল কার্ড পরোয়া করে না জামায়াত

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভারতের একমাত্র অপছন্দের দল হলো জামায়াতে ইসলামী। দেশের সব দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানালেও তারা আমাদের লাল কার্ড দেখায়। কিন্তু তাদের লাল কার্ডের পরোয়া করে না জামায়াত।

শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের স্মরণে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত।জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফয়সালা করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠন করেছে। গণভোটের ব্যাপারে তারা বলে—এটা তো সংবিধানে নেই। বলা হয়, এই চার প্রশ্ন এত জটিল, বুঝতে লাগে চার ঘণ্টা, জনগণ কীভাবে ভোট দিল? বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, গণভোটের চার প্রশ্ন জাতি যদি না বোঝে, তাহলে ৩১ প্রশ্ন বোঝে কীভাবে? এগুলো সব গোঁজামিল, ভাঁওতাবাজি।সংবিধান সংশোধন কমিটি সংবিধানের কোনো বিধিতে আছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি না থাকে, এটা কেন? এটা হচ্ছে জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়া, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়া। গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো ভাঁওতাবাজি জনগণ মেনে নেবে না। জুলাইয়ে সবচেয়ে বড় দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে। তাই ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার পথ বন্ধ করতে অবশ্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

জামায়াতের আমির বলেন, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ আমাদের প্রতিটি অর্জনই ছিনতাই করা হয়েছে। কিন্তু আমরা চব্বিশকে হারিয়ে যেতে দেব না। এই চব্বিশ না হলে আমি বিরোধী দলের নেতা হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারত না। কিন্তু মন্ত্রীদের বক্তব্যে জাতি আশাহত হচ্ছে।সভায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেন। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকায় ফিরে এসে এখন তাদের হুমকি দিচ্ছেন। কোনো রাজনৈতিক দল তাদের খোঁজখবর রাখছে না। শহীদ মোবারক হোসেনের বাবা রমজান আলী বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে শহীদ পরিবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি নতুন সরকারের কাছে দ্রুত বিচার সম্পন্ন ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। শহীদ মেহেদী হাসানের বাবা শেখ জামাল হাসান বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ধীরগতিতে তারা হতাশ। সরকারকে দ্রুত বিচার, সনদ বাস্তবায়ন এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদকে রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করতে হবে। শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সড়কের নামকরণ করতে হবে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ-সংক্রান্ত কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারি দল হিসেবে বিএনপিকে পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্রি. জে. (অব.) হাসিনুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জরুল ইসলাম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জগসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।