প্রচ্ছদ জাতীয় পিকফোর্ডের ‘পেনাল্টির নোট’ খুঁজে পেলেন মেসিরা, এরপর যা ঘটল…

পিকফোর্ডের ‘পেনাল্টির নোট’ খুঁজে পেলেন মেসিরা, এরপর যা ঘটল…

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠে উদযাপনের সময় একটি মজার ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের একটি পানির বোতল খুঁজে পান আর্জেন্টিনা দলের ম্যাসাজ থেরাপিস্ট মার্সেলো ‘ড্যাডি’ ডি’আন্দ্রেয়া। সেই বোতলের সঙ্গে লাগানো ছিল একটি কাগজ, যেখানে সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটআউটের জন্য আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শট নেওয়ার পছন্দের দিক লিখে রাখা ছিল।

প্রতিটি ম্যাচের মতো এবারও জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা কিছু সময় মাঠেই ছিলেন। আটলান্টার স্টেডিয়ামে তারা সমর্থক, পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা স্বস্তির মুহূর্ত উপভোগ করছিলেন।

এই সময়ই আলোচনায় আসে মার্সেলো ‘ড্যাডি’ ডি’আন্দ্রেয়ার পাওয়া সেই বোতলটি। পিকফোর্ড সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে বোতলের সঙ্গে একটি নোট লাগিয়ে রেখেছিলেন। সেখানে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি গ্রহণকারীদের নামের পাশে তারা সাধারণত কোন দিকে শট নেন, সে সম্পর্কিত তথ্য লেখা ছিল। গোলরক্ষকের উদ্দেশ্য ছিল, পেনাল্টি হলে সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে শট ঠেকানোর চেষ্টা করা।

টেলিভিশনের ক্যামেরায় দেখা যায়, ডি’আন্দ্রেয়া বোতলটি নিয়ে লিওনেল মেসি, নিকোলাস গনসালেস ও মার্কোস সেনেসির কাছে যান। তারা সবাই কাগজটি মনোযোগ দিয়ে দেখতে শুরু করেন।

মেসিকে কাগজের লেখাগুলো বোঝার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এরপর কয়েকজন মিলে সেটি নিয়ে আলোচনা করেন এবং লেখার অর্থ বুঝতে চেষ্টা করেন।

এর কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন এনজো ফার্নান্দেজ। নিজের নাম খুঁজে পাওয়ার পর তিনি হেসে ফেলেন। এরপর মজা করে ডি’আন্দ্রেয়াকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে ঘুষি মারার ভঙ্গি করেন। পরে আকাশের দিকে তাকিয়ে ইশারা করেন, যেন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন যে ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত গড়ায়নি। কারণ, তখন প্রশ্ন উঠেছিল—পিকফোর্ডের তথ্য কি সত্যিই কাজে লাগত?

পরে আর্জেন্টিনা দলের ফিটনেস কোচ লুইস মার্তিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিকফোর্ডের সেই কাগজের একটি বিস্তারিত ছবি প্রকাশ করেন। এতে বোঝা যায়, ইংলিশ গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পেনাল্টির অভ্যাস নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

ম্যাচ চলাকালেও পিকফোর্ডকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার একাধিকবার বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করার পর পিকফোর্ড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে বিতর্কিত ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। পরে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর গোল করলে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো দৌড়ে গিয়ে পিকফোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের উদযাপন করেন। ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই উত্তেজনা শেষ বাঁশি বাজার পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।