
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামায়াতপন্থি অ্যাডিশনাল পিপি (অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি), অ্যাডিশনাল জিপি (অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি) ও এপিপি (সহকারী সরকারি কৌঁসুলি) পদে দায়িত্ব পালনকারী ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের হাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে প্রেরণের জন্য একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়িত্ব পালনকারী ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অ্যাডিশনাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলীম উদ্দীন এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল হুদা।
এছাড়া সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ থেকে পদত্যাগকারী ১৫ জন হলেন, অ্যাডভোকেট মো. রবিউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. মোজাম্মিল আলী, অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কাজী আতিফুল হক, অ্যাডভোকেট সাদেক আহমদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল গফফার, অ্যাডভোকেট আফজল মিয়া তালুকদার, অ্যাডভোকেট খায়রুল আলম ও অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।
জানা গেছে, তারা নিজ নিজ পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।
পদত্যাগকারীরা তাদের পৃথক আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিহা ও বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের প্রতিবাদে তারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। একইসঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল খালিক কালবেলাকে বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃক গণহত্যা, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা ও স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ চালু না করার প্রতিবাদ স্বরূপ তারা উক্ত পদ হতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বতন্ত্র বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ অর্থাৎ জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকার সেই চেতনা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে না। পাশাপাশি জনগণের মতামত, রায় ও গণভোটকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যার ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আমরা সচেতনভাবে, স্বেচ্ছায় ও নৈতিক অবস্থান থেকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি হলো- জনগণের গণভোটের পূর্ণ প্রতিফলন ও বাস্তবায়ন, একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর ও স্বাধীন ভূমিকা নিশ্চিত করা। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মূল চেতনা ও স্পিরিট শতভাগ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা সবসময় জনগণের পক্ষেই অবস্থান করব।












































