
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিএনপি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অবমাননা করেছে। দ্রুত নির্বাচনের চাপে সংস্কার প্রস্তাবগুলো এড়িয়ে গেছে। এই রাজনৈতিক প্রতারণার দায় বিএনপিকে আগামী এক শতাব্দী পর্যন্ত বহন করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যারা ক্ষমতায় এলেন, পরে তারাই সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, নির্বাচন যাতে পিছিয়ে না যায়, সেজন্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, আগামী এক শতাব্দী পর্যন্ত এই রাজনৈতিক প্রতারণার দায় বিএনপিকে বহন করতে হবে, খেসারত দিতে হবে। বিএনপি এখনো বুঝতে পারছে না তারা কত বড় রাজনৈতিক ভুল করেছে। তবে আশা করছি, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত আত্মসমালোচনার মাধ্যমে সেই অবস্থান থেকে সরে আসবে।’
সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, ব্যাংকিং খাত, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ ও আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই পরে ল্যাপস করা হয়েছে। এসব আইন বাতিল করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘এসব আইন পুনর্বহাল না করলে জাতি আবারও সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই জাদুঘর চালু করা এবং গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, বই ও গবেষণা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় করতে হবে। জুলাই শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। সেই চেতনা ধরে রেখেই রাষ্ট্র সংস্কারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হবে।’












































