
চলতি বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ এর ম্যাচে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া প্রস্তুত হওয়ার আগেই লিওনেল মেসির ফ্রি-কিক নেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মূলত ফুটবলের নিয়ম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অভাব থেকে উদ্ভূত। তবে টেকনিক্যালি আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই শটটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল।
ফুটবলের আইন অনুযায়ী, ফ্রি-কিক পাওয়ার পর বল যখন নির্দিষ্ট স্পটে রাখা হয়, তখন শট নেওয়ার জন্য রেফারির বাঁশির জন্য অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়। এটি মূলত একটি কৌশল, যা ফুটবল বিশ্বে ‘কুইক ফ্রি-কিক’ হিসেবে পরিচিত। নিয়ম অনুযায়ী ফ্রি-কিক পাওয়ার পর যদি বল স্পটে রাখা হয় এবং প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা ১০ গজ দূরত্বে ওয়াল সেট করে ফেলেন, সেক্ষেত্রে কোনো বিতর্কই থাকে না। বাকিরা প্রস্তুত হোক কিংবা না হোক, রেফারি বাঁশি না বাজালেও শট নেওয়া যায়।
নিয়মে গোলরক্ষকদের সুরক্ষার একটি নির্দিষ্ট উপায় দেওয়া আছে। যদি কোনো গোলরক্ষক মনে করেন যে তিনি প্রস্তুত নন বা ওয়াল ঠিকমতো সাজানো হয়নি, তবে তাকে এক হাত উপরে তুলে রেফারিকে ইঙ্গিত দিতে হবে যে তিনি প্রস্তুত নন।
ম্যাচের সেই মুহূর্তে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া নিজের পজিশন ঠিক করার প্রক্রিয়ায় থাকলেও রেফারিকে ওই বিশেষ সংকেতটি দেননি। আর বিচক্ষণ লিওনেল মেসি সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছেন। গোলরক্ষকের প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নিয়ম মেনেই তিনি দ্রুত শট নিয়ে গোল আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করেছেন।
রেফারি বাঁশি বাজানোর আগেই ফ্রি-কিক নেওয়া ফুটবলের আইনের কোনো লঙ্ঘন নয়, যদি না রেফারি নিজে শট নেওয়ার আগে বাঁশি বাজানোর নির্দেশ দেন (যেমন: কোনো গুরুতর ফাউলের পর বা কার্ড দেখানোর কারণে খেলা দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকলে)। মেসি সেই সুযোগটুকু নিতে কোনো ভুল করেননি, যা তার উপস্থিত বুদ্ধিরই পরিচয় দেয়।













































