
ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় রাজধানীর আদাবরে ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশাহ মিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
বুধবার (০১ জুলাই) রাতে নবোদয় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত বিএনপি নেতা বাদশাহকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতে সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর-আদাবর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, গত পরশু ব্রাজিলের খেলা দেখা শেষে জয় উদযাপন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। আজকের ঘটনায় এক পক্ষকে মারধরের পর বিষয়টি নিয়ে বিচার বসেছিল। সেই বিচার শেষে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এডিসি জুয়েল রানা আরও বলেন, ঘটনার সূত্র ধরে সাদ্দাম নামের একজন আদাবর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। তবে তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে ভিন্ন কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শুরু গত পরশু রাতে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর নবোদয় বাজার এলাকার কয়েকজন কিশোর আনন্দ করতে গিয়ে ঢোল ও বাঁশি বাজায়। এ সময় হাবিব নামের এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন বলে জানা গেছে। এর পরদিন একই ঘটনার জেরে সাদ্দাম নবোদয় বাজারে গিয়ে নিরবকে আবার মারধর করেন এবং তুলে নিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরপর বুধবার রাতে নবোদয় বাজারে হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে বিচার বসে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিচার শেষে সাদ্দাম ও তার লোকজন নিরব এবং তার বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ইউনিট বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে জখম করা হয়। একই ঘটনায় সাদ্দাম ও বাদশাহও আহত হন। পরে হাসপাতালে বাদশাহ মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, হাবিবুর রহমান স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে রিপন ও নিরব স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।











































