
ঢাকার আশুলিয়ায় ডিস-ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে আমিনুর দেওয়ান (৩৮) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার খেজুরটেক এলাকার হজরত আলী মার্কেটের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত আমিনুর দেওয়ান সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, আহত আমিনুর দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে খেজুরটেক এলাকায় বৈধভাবে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী সামিউল আলম সৈকত।
স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা
দুদিন ধরে নিখোঁজ নারীর লাশ মিলল ডোবায়
মঙ্গলবার বিকেলে সৈকতের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল আমিনুরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রামদা, ছড়া ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় আমিনুর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত সামিউল আলম সৈকত এলাকায় একচ্ছত্র মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। তার এই অপকর্মের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ফুঁসে উঠেছিল এলাকাবাসী। আমিনুরের নেতৃত্বে স্থানীয়রা সৈকতের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনের পর থেকেই সৈকত আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এর আগেও সৈকত তার বাহিনী নিয়ে আমিনুরের ডিস অফিসে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করেছিল। পরে তার বাবা মজিবর রহমানের মধ্যস্থতায় সেসব মালামাল ফেরত দেওয়া হলেও তাদের মূল টার্গেট ছিল ব্যবসাটি দখল করা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সৈকত ও তার দলের কাছে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ বিদেশি পিস্তলও রয়েছে। তাদের মাদক সেবন ও বিক্রির একাধিক ভিডিও স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু অস্ত্রের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।
পাথালিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ন্যাক্কারজনক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবক দলের ওই কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আমি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাই।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ওই ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
আশুলিয়া











































