প্রচ্ছদ জাতীয় মা-তিন মেয়েকে কুপিয়ে হ’ত্যা: সেই অন্তরের মোটিভ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা!

মা-তিন মেয়েকে কুপিয়ে হ’ত্যা: সেই অন্তরের মোটিভ নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা!

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে তদন্তের শুরুতেই সামনে এসেছে অভিযুক্ত ও গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের অতীত জীবন, পরিচয় গোপন করে বসবাস এবং নিহত পরিবারের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয়ের নানা তথ্য।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, অন্তর মজুমদারের পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা ও প্রতিবেশীদের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। যদিও পুলিশ এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সকাল ১১টার দিকে অন্তর মজুমদার বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ভবনটিতে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে চিৎকার শুনে এক নারী প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি অন্তরকে আগে থেকেই চিনতেন। সন্দেহ হওয়ায় বাইরে থেকে গেট আটকে দিয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা অন্তরকে আটক করে গণপিটুনি দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রায় দেড় বছর আগে অন্তর মজুমদার একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তখন তিনি নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হারুন, রানীসহ কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, অন্তর ও তার সঙ্গে থাকা নারীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। পরে তার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বাড়িওয়ালা তাকে বাসা ছাড়তে বলেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই অন্তরের সঙ্গে ভবনের কয়েকজন বাসিন্দার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

ঘটনার পর এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, নিজের দাম্পত্য জীবন ভেঙে যাওয়ার জন্য প্রতিবেশীদের দায়ী মনে করতেন অন্তর। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এখনো কোনো কারণকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। তদন্তে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

রায়পুরের এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখনো বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। একজন মানুষের পক্ষে কি একাই চারজনকে হত্যা করা সম্ভব ছিল? হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না? অন্তরের সঙ্গে নিহত পরিবারের প্রকৃত সম্পর্ক কী ছিল? পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না? পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ এর পেছনে কাজ করেছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই হয়তো উন্মোচিত হবে রায়পুরের বহুল আলোচিত এই চার খুনের প্রকৃত রহস্য।