
আব্দুল জলিল তোতা, প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থক ছিলেন। পরে দলটির রাজনীতিতে একজন কর্মী হিসেবে যোগ দেন। দলের কাছে আশাও ছিল তার ব্যাপক। কিন্তু ন্যায় বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দুধ দিয়ে গোসল করে বিএনপি ছেড়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দেন তোতা। এ ঘটনাটিকে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে পালন করেন তিনি।
তোতার দাবি, স্বজন হত্যার বিচার চেয়ে বার বার প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আস্থা হারিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে আর কোনো দলের রাজনীতি করবেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল তোতা ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির সমর্থক পরে বিএনপির কর্মী হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে কাজী আজহার আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং নির্বাচনী বুথের দায়িত্বেও ছিলেন।
তোতা বলেন, ‘২০১৮ সালের ৫ জুলাই আমার চাচাতো ভাই মুকুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট বছরেও সেই হত্যার বিচার পাইনি। আবার গত ২১ জুন আমার মামাতো ভাই ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার পাব কি না, তাও জানি না। বারবার স্বজন হারানো এবং বিচারহীনতার অভিজ্ঞতা আমাকে হতাশ করেছে। তাই আমি আর এই নোংরা রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের জন্য নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বজনদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
তবে আব্দুল জলিল তোতার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ কালবেলাকে বলেন, ‘আব্দুল জলিল তোতা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা বা কর্মী নন। তিনি বিএনপির কোনো কমিটির সদস্যও নন। বর্তমানে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার ব্যক্তিগত বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের দায় বিএনপি বহন করে না।’
এরআগে, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সূত্র : কালবেলা












































