প্রচ্ছদ জাতীয় লোডশেডিংয়ের কারণ জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

লোডশেডিংয়ের কারণ জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই, তাই লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন পড়ে না। তার মতে, ঝড়-বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কখনো কখনো সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রসুলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, চলমান গ্রীষ্মে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেই চাহিদা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য চাহিদার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ উৎপাদনে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, ফলে কেন্দ্রগুলো এখন উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত।

যশোরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান। তার ভাষায়, বর্তমানে এসব এলাকায় কোনো লোডশেডিং নেই।

এছাড়া যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রিডে বর্তমানে ৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ সুষমভাবে বণ্টনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি সেচ মৌসুমে, অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত, নওয়াপাড়া উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

তবে মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় মাঝে মাঝে বিদ্যুৎবিভ্রাটের ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় সচল করা হয়।