প্রচ্ছদ জাতীয় হেলমেট ছাড়াই মোটরসাইকেল চালালেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

হেলমেট ছাড়াই মোটরসাইকেল চালালেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাই রাফিন সরকারকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের একজন দায়িত্বশীল পদস্থ কর্মকর্তার এমন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিব্রত বোধ করছেন।

তবে সিসিকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কিছু প্রশাসনিক অভিযোগ উঠেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে।

জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সরকারের যুগ্ম সচিব রেজাই রাফিন সরকার ঈদের আগের দিন বুধবার (২৭ মে) হেলমেটবিহীন অবস্থায় মোটরসাইকেল চালানোর একটি ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন। ওই সময় মোটরসাইকেলের পেছনে তার স্ত্রী বসা ছিলেন, যার মাথায়ও কোনো হেলমেট ছিল না।

বাবার চোখের সামনে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল মেয়ের
ভিডিওটির ক্যাপশনে রেজাই রাফিন সরকার লিখেছিলেন, আজ সকাল সাড়ে ৬টায় সিলেট এয়ারপোর্ট রোডে ফাঁকা রাস্তায় একটু বাইক চালালাম। তাই হেলমেট পরা হয়নি। তবে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো ঠিক না। নেক্সট টাইম অবশ্যই হেলমেট ইউজ করব।

ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করার পরপরই একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার এমন আইন অমান্য করার আচরণ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে একপর্যায়ে তিনি তার আইডি থেকে ভিডিওটি ডিলিট (অপসারণ) করে নেন।

এ বিষয়ে ‘সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন’ সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যেহেতু নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই ফেসবুক প্রোফাইলে ভিডিওটি আপলোড করেছেন, তাই এটি প্রমাণ করার জন্য বাড়তি কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর অপরাধে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা ও জরিমানা হওয়া উচিত। ‘আইনের চোখে সবাই সমান’- এই বার্তাটি সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হলেও প্রশাসনকে কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ ও বাধ্যবাধকতার বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদিপ্ত রায় কালবেলাকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহী উভয়ের জন্যই হেলমেট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। হেলমেট না পরলে আইন অনুযায়ী মামলা ও জরিমানার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হেলমেট ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় হেলমেট মাথাকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে এবং সার্জেন্টদের চোখে কোনো মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী হেলমেট ছাড়া ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সিসিক কর্মকর্তার হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল যাত্রার ভিডিও প্রসঙ্গে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদিপ্ত রায় বলেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অবশ্যই সচেতন নাগরিক। হয়তো বিশেষ কোনো কারণে ওই মুহূর্তে হেলমেট ব্যবহার করা হয়নি। তবে সরকারি কর্মকর্তা হোন কিংবা সাধারণ নাগরিক- মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে সবারই হেলমেট পরা উচিত। কারণ এটি শুধু আইনের বাধ্যবাধকতাই নয়, নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।