
বিএনপির উচিত ছিল সারাদেশে কিছু শিক্ষিত লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসানো অথবা তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিশেষ বরাদ্দ আর রাজস্ব খাত গুলিয়ে ফেলেন এমন লোকদের প্রশাসক পদে বসার কোনো যোগ্যতাই নাই। এত মূর্খ লোকদের সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে এটা খুবই দুঃখজনক।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে রাজধানীর কালশীর বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি ও হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি বলেন, ‘কাজের জন্যই নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এই ধরনের জিনিস নিয়ে আমাদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, জবাবদিহি করতে হচ্ছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থগুলো বিভিন্ন উপজেলায় খরচ হয়েছে। এর ৯০ শতাংশের বেশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বরাদ্দ খাত আর রাজস্ব খাত তো এক না।
তিনি বলেন, এটা যদি গুলিয়ে ফেলেন তাহলে ওখানে তাদের বসার কোনো যোগ্যতাই নাই। দ্বিতীয়ত উনার কথার মধ্যে অসঙ্গতি। প্রথমে বলছেন নিয়ে গেছেন। তারপর হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন ফোন দিলেন, তখন বলছেন—নিয়ে গেছেন তো আমি বুঝাই নাই, আপনারা বরাদ্দ দিছেন।
আগুন-সন্ত্রাসের মাধ্যমে বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির এ নেতা। তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেই উচ্ছেদ করতে হবে।
কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন আসিফ মাহমুদ। এনসিপির মুখপাত্রকালশীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনার ক্ষোভ থেকেই এই আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ সময় তিনি দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসন, জরুরি ত্রাণসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনের সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবসহ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।











































