
স্বর্ণের দাম বড় ধরনের মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। স্বর্ণের দাম কি আরো কমবে, নাকি আবার বাড়বে—তা ঠিক হতে পারে আগামী কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতির ওপর। বছরের শুরুতেই স্বর্ণের বাজারে একটা বড় ধাক্কা লেগেছিল। গত ৩০ জানুয়ারি হঠাৎ করেই স্বর্ণের দাম অনেক বেড়ে যায়, কিন্তু তার পরপরই আবার হুড়মুড় করে কমে যায়। বাজারের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্লো-অফ টপ’।খবর রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণ অবলম্বনে।
সহজ কথায়, দাম যখন একদম সর্বোচ্চ সীমানায় পৌঁছে হঠাৎ ধপাস করে পড়ে যায়, তখন তাকে এমনটা বলা হয়। এর পর থেকে স্বর্ণের দাম যতবারই একটু বাড়ার চেষ্টা করেছে, প্রতিবারই আগের বারের চেয়ে কম দামে গিয়ে আটকে গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন মন্দাভাবের লক্ষণ হিসেবে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, টানা দরপতনের কারণে স্বর্ণের দাম এখন তার ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের (গড় মূল্য) কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা প্রায় ৪ হাজার ৩৯৪ ডলার। বাজারের অনাকাঙ্ক্ষিত ওঠানামা বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেন্ড বা গতি-প্রকৃতি বুঝতে ব্যবসায়ীরা এই সূচকটি ব্যবহার করেন।
বর্তমানে এই ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের গুরুত্ব আরো বাড়িয়েছে এর কাছাকাছি থাকা আরো দুটি সূচক। একটি হলো গত অক্টোবর মাসের সর্বোচ্চ চূড়া (৪ হাজার ৩৮১.২১ ডলার) এবং অন্যটি স্বর্ণের ‘লোয়ার বলিঞ্জার ব্যান্ড’ (৪ হাজার ৪১৭ ডলার)। কারিগরি বিশ্লেষকদের কাছে অতীতের এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রেকর্ডগুলো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম যদি এই ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ এবং অক্টোবরের সর্বোচ্চ চূড়ার নিচে নেমে যায়, তবে দাম আরও কমে গত মার্চ মাসের সর্বনিম্ন স্তর ৪ হাজার ৯৭.৯৯ ডলার কিংবা তারও নিচে চলে যেতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই মুহূর্তে বাজারে ক্রেতা (বুলস) ও বিক্রেতাদের (বেয়ারস) মধ্যে একটি তীব্র মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে। স্বর্ণের দাম যদি কোনোভাবে চলতি মাসের সর্বোচ্চ স্তর ৪ হাজার ৭৭৩.১৪ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে, তবে বড় দরপতনের আশঙ্কা কেটে যাবে এবং বাজার আবার চাঙ্গা হওয়ার পথ সুগম হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স












































