
‘বড় একটি এক্সিডেন্ট হোক, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হোক দেহ, স্বপ্নগুলো মরে যাক, মুছে যাক সব অপূর্ণতা’। প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী মাহাদি রাজ শুভ। সেই স্ট্যাটাসই যেন পরবর্তীতে মর্মান্তিক বাস্তবে রূপ নেয়। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই বাংলাদেশি যুবক।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে হোয়াটসঅ্যাপে মাহাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৌদিতে অবস্থানরত তার সহকর্মী আরাফাত হোসেন রায়হান।
নিহত মাহাদি রাজ শুভ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ দুলালের ছেলে। তিনি চরমার্টিন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সহকর্মী আরাফাত হোসেন রায়হান জানান, কয়েকদিন ধরেই মাহাদি মানসিকভাবে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে তিনি ফুড ডেলিভারির কাজে বের হন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় সহকর্মীরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাতে সৌদি পুলিশ জানায়, রিয়াদ শহরের তোমামা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাহাদির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ সৌদি আরবের কিং সৌদি হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহাদি ছয় মাস আগে দ্বিতীয় দফায় সৌদি আরবে যান। তার বাবা মোহাম্মদ দুলালও বর্তমানে সৌদিতে অবস্থান করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা দেশে রয়েছেন- মা ও বোন। তবে এখনো তাদের বিষয়টি জানানো হয়নি। নিহতের বাবা বিষয়টি আপাতত গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।
নিহতের মামা আলমগীর সারোয়ার বলেন, অনেক টাকা খরচ করে মাহাদিকে সৌদিতে একটি দোকান করে দিয়েছিলেন তার বাবা। ব্যবসাও ভালো চলছিল। পরে সে দোকান বিক্রি করে দেশে চলে আসে। এরপর পরিবারের অজান্তে বিয়ে করে। পরে পরিবার সেটি মেনে নেয়। তার তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে সে মানসিক দুশ্চিন্তায় ছিল। প্রায় দুই মাস আগে সে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসও দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার কাজে বের হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা মোহাম্মদ দুলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।












































