
আসন্ন ঈদুল আজহার দিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ষা মৌসুমের আগাম প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও ভারী বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভ্যাপসা গরমের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার দুপুরে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ঈদের দিন রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, সিলেট বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগর কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে, যদিও সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি আরও বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বাড়ছে। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই অবস্থা থাকতে পারে। এরপর বর্ষার প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, রাজধানীতে আকাশে নিম্নস্তরের মেঘ থাকলেও সেখান থেকে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না। বরং এই মেঘ ভ্যাপসা গরম আরও বাড়াতে পারে।
গত বুধবার রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা কমে ৩৪ ডিগ্রিতে নেমে এলেও গরমের অস্বস্তি কমেনি। একই সময়ে খুলনা বিভাগর খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। শুক্রবারও এসব এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঈদের দিন সকালবেলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। ফলে খোলা মাঠ ও ঈদগাহে জামাত আয়োজনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ মসজিদ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও বিশেষ বৃষ্টি নিরোধক শামিয়ানার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া পশু কোরবানির সময় বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগের আশঙ্কা থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যথাসম্ভব ছাউনিযুক্ত বা নিরাপদ স্থানে পশু জবাই করার অনুরোধ জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৃষ্টির পানির সঙ্গে কোরবানির রক্ত ও বর্জ্য মিশে যাতে পরিবেশ দূষণ বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বাড়তি নজর দিতে হবে।













































