প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক বাড়ার পরে কমল তেলের দাম

বাড়ার পরে কমল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক শঙ্কার মধ্যেই হঠাৎ বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছিল তেলের বাজারে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের সম্ভাব্য সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছেন।

আর এতেই তেলের দাম কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বাজারে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে প্রায় ১০৯ ডলারে চলে আসে। এর আগে পুরো সোমবারজুড়েই দোলাচলে ছিল জ্বালানি বাজার।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে ইরান।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবহন হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

সোমবার দিনের শুরুতে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ এই বক্তব্যের পরপরই তেলের দাম আরো বেড়ে যায়।

তবে পরে পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আলোচনার স্বার্থে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা তৈরি হয়।

এরপর ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছেন। তিনি জানান, ‘খুবই গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তির দিকে আলোচনা এগোচ্ছে।’ তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রার হামলায় যেতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সামনে ‘ভোগান্তির গ্রীষ্ম’ অপেক্ষা করছে বিশ্বের জন্য। জ্বালানির বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত।