প্রচ্ছদ জাতীয় মেয়ে কারিনার অকাল মৃত্যুর পর বাবা কায়সার হামিদের আবেগি বার্তা

মেয়ে কারিনার অকাল মৃত্যুর পর বাবা কায়সার হামিদের আবেগি বার্তা

উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর।

শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত মধ্যরাতে ফেসবুকে দেয়া পোস্টে কায়সার হামিদ মেয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়ে কারিনা কায়সার আজ শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে মাত্র ৩১ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের চেন্নাইয়ে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। ’

একই পোস্টে আবেগঘন হয়ে কায়সার হামিদ লেখেন, ‘মৃত্যু অনিবার্য, আমাদের সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম-মৃত্যু আল্লার হাতে। আমরা সবাই দিন-রাত মহান আল্লাহর দরবারে কারিনার জন্য দোয়া করেছি। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে শুধু এটুকুই বলি, হয়তো মহান আল্লাহ আর তাকে কষ্ট দিতে চাননি। তাই নিজ রহমতের ছায়ায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন। অত্যন্ত সরল সোজা, খোলা মনের, হাসি খুসি সুন্দর মনের মেয়েটিকে আল্লাহ পাক যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। নূরে পরিপূর্ণ করে দেন এবং সেই সাথে আমার পরিবারের সকল সদস্যসহ তার অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে এই অসহনীয় শোক তার অকাল মৃত্যুতে ধৈর্যের সাথে বহন করার তৌফিক দান করেন।’

চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। তবে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পরিবার জানিয়েছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। তিনি বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ–এর নাতনি।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ ও ৩৬-২৪-৩৬।

তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা।