প্রচ্ছদ জাতীয় এবার চরমোনাই পীরের দলেও আসছে ‘ছাত্রী উইং’

এবার চরমোনাই পীরের দলেও আসছে ‘ছাত্রী উইং’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাংগঠনিক কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নারী ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে ও তরুণীদের সংগঠিত করতে আলাদা ‘ছাত্রী উইং’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। ঈদুল আজহার পর এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, নারীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকলেও আগে আলাদা সংগঠন করার ভাবনা ছিল না। কিন্তু পরিবর্তিত বাস্তবতায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রী সংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়াতে সেই কৌশল কিছুটা কার্যকর হয়। ইসলামী আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

উল্লেখ্য, ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় ইসলামী আন্দোলন। শুরুতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকলেও নির্বাচনের আগে তারা সরে আসে। দলটি মোট ভোটের ২.৭০ শতাংশ পায় এবং একটি আসনে জয়লাভ করে।

১৯৮৭ সালে চরমোনাই পীরের হাতে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন ইসলামী আন্দোলনের কোনো নারী ইউনিট ছিল না। গত বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ৩৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট গঠন করে দলটি।

দলীয় সূত্র জানায়, সংগঠনের কাঠামো, নেতৃত্ব নির্বাচন ও কার্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মাসিক সভায় প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ঈদুল আজহার পর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতো ছাত্রী উইংও ইসলামী আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও বিভাগীয় পর্যায়ের সদস্যদের নিয়ে যাত্রা শুরু হতে পারে। আলেমা, চিকিৎসক ও শিক্ষকদের নেতৃত্বে আনার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার বিভিন্ন শাখা ও পেশা থেকে নারী নেতৃত্ব বাছাইয়ের পরিকল্পনা আছে।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, সহযোগী সংগঠনগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে। নতুন ছাত্রী সংগঠনও ভবিষ্যতে সেই ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমেও যুক্ত থাকবে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ছাত্রী উইংয়ের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকবে। তবে এটি মূল সংগঠনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগ শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, বরং নারীদের নৈতিক ও সামাজিকভাবে সক্রিয় এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : দেশ রুপান্তর