
কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে আটক পাঁচ বিএনপি-জামায়াত নেতাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১০ মে) দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশ মুচলেকা নেওয়ার পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়। মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (৯ মে) রাতে মিরপুর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আসলে একজন ইউপি মেম্বারসহ বিএনপি-জামায়াতের পাঁচজন নেতাকে আটক করে পুলিশ।
তারা হলেন- উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের মোল্লার ছেলে স্থানীয় মেম্বার মো. এনামুল হক (৪৫), একই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে মো. সুজন আলী (৩৩), মৃত মেহের আলী মালিথার ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪৩), মো. রমজান মন্ডলের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং মৃত. ইছাহক মালিথার ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (৩৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নওদা আজমপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রমজান আলীর ছেলে রবিউল ইসলামকে ৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করে আমলা ক্যাম্প পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে মাদকসহ থানায় নেওয়ার পর সেখানে উপস্থিত হন একই এলাকার বিএনপি এবং জামায়াতের স্থানীয় পাঁচজন নেতা।
তারা আটক মাদকব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে পুলিশ ওই পাঁচজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
মিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী বলেন, এই ধরনের কাজ খুবই প্রশংসনীয়। মাদক নির্মূলে পুলিশের ভূমিকা এমন হওয়া উচিত। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া ঠিক না। মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে যারা থানায় গেছেন, তারা কোনো দলের হতে পারে না।
মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মহিউদ্দিন জানান, সকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। তিনি বলেন, আটক চারজন সরাসরি জামায়াতের কোনো কমিটিতে নেই। তবে আমাদের সাপোর্টার এবং গত নির্বাচনে তারা আমাদের ভোট দিয়েছেন।
মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলা ক্যাম্পের ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম নওদা আজমপুর গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন রবিউল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৮ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় নিয়ে আসার পরে তাকে এবং মাদকসহ ক্যাম্প ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
মামলা দায়ের করার পরে স্থানীয় নওদা আজমপুর গ্রামের বিএনপি সমর্থিত রানিং মেম্বার তাকে এবং তার সঙ্গে জামায়াতের চার নেতা থানায় এসে বার বার অনুরোধ করে এই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তাদেরকেও বলা হয় যে মাদক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তারা অনুরোধ করতে থাকলে একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদেরকে আমার (ওসি) হেফাজতে নিয়ে রাখি।
তিনি আরও বলেন, রোববার সকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই মাদকবিরোধী অভিযান মিরপুরে অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : কালবেলা









































