প্রচ্ছদ জাতীয় ঠিকাদারি কাজের ‘ভাগ না পেয়ে’ কাজ বন্ধ করে দিলেন এমপি

ঠিকাদারি কাজের ‘ভাগ না পেয়ে’ কাজ বন্ধ করে দিলেন এমপি

নিজের লোকজনকে ঠিকাদারি কাজের অংশীদার না করার কারণে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এমপি আবু সাঈদ চাঁদ রেলওয়ের একটি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে স্টেশনে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেছেন তিনি। তাই শনিবার (৯ মে) কাজ করতে পারেননি ঠিকাদার।

কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার বলেছেন, ‘কার ঘাড়ে কয়টা মাথা? এমপি নিষেধ করে গেছেন আর কাজ করবো!’

ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন বাঘার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনের পুরনো কাঠের স্লিপার তুলে ফেলে নতুন করে কংক্রিটের স্লিপার ও পাথর বসানোর এই কাজটি পেয়েছে। মোট ৬৩০ মিটার রেললাইনে এই কাজটি হচ্ছে। ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস ও আশরাফ উদ্দিন প্রায় তিন কোটি টাকার এ কাজটি করছেন। গত ২৭ এপ্রিল তারা কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে পুরনো স্লিপার তুলে ফেলা হয়েছে।

কাজের সাইট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ডাবলু। কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। বলেন, ‘আমি এসব বলতে যাবো না ভাই। আমি বলতে গেলে খারাপ হয়ে যাবো। আপনারা আপনাদের মতো খোঁজ নেন।’

যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন জানান, কাজ শুরুর পর থেকে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী পরিচয়ে কয়েকজন তাদের প্রতিনিধির কাছে যান। তারা কাজের অংশীদার হতে চান। তা না হলে তাদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তারা নিজেরাই সব করবেন বলে সব নির্মাণসামগ্রী কিনে ফেলেছেন। এসব দেখে তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কয়েকদিন আগে এমপি আবু সাঈদ চাঁদ তাকে ফোন করে বলেন, ‘সাইট ম্যানেজার ডাবলু পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ডাবলু যেন তার সঙ্গে দেখা করেন।’ কিন্তু ডাবলু যাননি।

আশরাফ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে ট্রেনে চড়েই এমপি আবু সাঈদ চাঁদ ঢাকায় যান। এ জন্য রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি আড়ানী স্টেশনে যান। স্টেশনে গিয়ে তিনি ডাবলুকে খোঁজেন। ডাবলু গেলে তাকে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘এখন থেকে কাজ বন্ধ থাকবে’। তিনি বিষয়টি দেখবেন। এরপর কাজ শুরু হবে। এ জন্য শনিবার কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

ঠিকাদার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পুরোনো লাইন তুলে ফেলেছি। আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছি। এখন তো কাউকে কাজের অংশীদার করার কিছু নাই। আমরা ঈদের আগে কাজটা শেষ করতে চাই। এখন বন্ধ করে দেওয়ায় কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে যাবে। কিন্তু কার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে এমপি নিষেধ করে গেছেন আর কাজ করবে? আমরা কাজ বন্ধ রেখে বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবির। কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘কাজ বন্ধ রাখলে তো সমস্যা। এতে ক্ষতি হবে। লাইন এভাবে পড়ে থাকলে শিডিউল বিপর্যয়ও হতে পারে। বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আমি প্রকৌশল বিভাগে কথা বলে সমস্যাটি জেনে সমাধানের চেষ্টা করবো।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজশাহী-৬ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে ফোন করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে হোয়াটসঅ্যাপে কল গেলেও তিনি ধরেননি। তার ব্যক্তিগত সহকারী জালাল উদ্দিন জানান, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় আছেন। সভা শেষে তিনি এই প্রতিবেদককে এমপির সঙ্গে কথা বলাবেন।

পরে বিকালে কল করে জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি এ বিষয়ে এমপির সঙ্গে কথা বলেছেন। এমপি তাকে বলেছেন যে, কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি কোনও নির্দেশ দেননি।

জালাল আরও বলেন, তিনি নিজেও খোঁজ নিয়েছেন। শুক্রবার যেসব কাজ চলছিল সেগুলো বন্ধ আছে। তবে ঠিকাদার স্টেশনে অন্য কাজ করছেন। কাজ বন্ধ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে দুপুরে জালাল উদ্দিন বলেন, ‘স্টেশনে রাতে এমপির সঙ্গে তিনিও ছিলেন। এমপি ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে বলেছেন ঠিকমতো কাজ করবেন। বড় কাজ, এলাকার ছেলেদের যদি সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হয় তাহলে নেবেন। তাদের যদি কাজে লাগানো যায়- এ রকম বলেছেন।’