প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, জানা গেল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, জানা গেল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (৮ মে) কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র সঙ্গে নির্বাচিত নতুন বিধায়কদের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। আজই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার পাশাপাশি বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এর আগে এদিন বেলা ১১টার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বহনকারী বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান দক্ষিণেশ্বরে। মন্দিরে পূজা দিয়ে তিনি সেখান থেকে যান নিউ টাউনের হোটেলে। দুপুরে বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থী তথা হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। আর সেখানেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়।

তবে, ভারতের এই রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব যে শুভেন্দুই পেতে যাচ্ছেন সেটি আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। জানা গেছে, নিউ টাউনের হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন অমিত শাহ। এরপর আগামীকাল শনিবার সেখান থেকে সোজা চলে যাবেন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানেই শপথে নেবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের জন্ম শুভেন্দুর। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবন, একসময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া সঙ্গী। রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে। এরপর ২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে প্রথমবার বিধানসভায় পদার্পণ এবং ২০০৭-০৮ সালের ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে পরিবহণ ও সেচ দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলানোর পর, ২০২০ সালে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন।

সেই জয়ের পর রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এক অনন্য সাহস দেখিয়ে নিজের দুর্গ নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই কেন্দ্র থেকেই জয় লাভ করার পাশাপাশি বিজেপি রাজ্যে ম্যাজিক ফিগার পার করে।

৯২.৪৭ শতাংশের রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি এবং ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লাখ ‘ভুয়া’ ভোটার বাদ দেয়ার লড়াইকে হাতিয়ার করে শুভেন্দু আজ বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। কাঁথি হাই স্কুল থেকে স্কুল জীবন শেষ করে প্রভাত কুমার কলেজ এবং পরবর্তীকালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা এই নেতা মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবারের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে বহন করছেন।

বর্তমানে তার বাবা শিশির অধিকারী এবং দুই ভাই দিব্যেন্দু ও সৌমেন্দু সকলেই বিজেপির ছত্রছায়ায় মেদিনীপুরের রাজনৈতিক একাধিপত্য বজায় রেখেছেন। মেদিনীপুরের সিংহ থেকে আজ কলকাতার ক্ষমতার অলিন্দে শুভেন্দুর এই জয়যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।