প্রচ্ছদ জাতীয় টাকা তুলেই ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ সেই পুলিশ সদস্য, যা জানা গেল

টাকা তুলেই ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ সেই পুলিশ সদস্য, যা জানা গেল

ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজের ৪ দিনেও সন্ধান মেলেনি পুলিশ সদস্য রাকিবুল হাসান সরকারের (৩২)। গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর কলাবাগান থানার ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। রাকিবুল হাসান কলাবাগান থানার এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ সদস্য রাকিবুল হাসানের কোনো সন্ধান না পেলেও ঢাকায় তার গতিবিধি সম্পর্কে কিছুটা জানতে পেরেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলাসহ প্রযুক্তিগতভাবে দু’টি স্থানে তার উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণের মতো কোনো কারণে নয়, বরং ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক কারণে আত্মগোপনে আছেন এসআই রাকিবুল হাসান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিখোঁজের পর এসআই রাকিবুল হাসানের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। তার সন্ধান পাওয়ার পর পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে থানা ভবনের ব্যারাক থেকে বের হন এসআই রাকিবুল হাসান। এর কিছুক্ষণ পর চা খেয়ে আবারও ব্যারাকে ঢোকেন তিনি। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ‘নাইট ডিউটি’র কথা বলে আবারও ব্যারাক থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা পাশাপাশি দেশের সব থানায় বেতারবার্তাও পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানিয়েছে, নিখোঁজের পরদিন (২৯ এপ্রিল) গুলিস্তানে একটি ব্যাংকের বুথ থেকে ৫ হাজার টাকা তোলেন এসআই রাকিবুল হাসান। ওইদিন রাজধানীর চকবাজার এলাকায় তার মুঠোফোনটি সক্রিয় পাওয়া যায়। ওই সময় তার মুঠোফোনে টাকা তোলা সংক্রান্ত ব্যাংকের মেসেজটি আসে। এতে বোঝা যাচ্ছে টাকা তোলার সময় তার ফোন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে যখন এসআই রাকিবুল হাসান ফোন চালু করেছেন, তখনই ব্যাংকের লেনদেন সংক্রান্ত মেসেজটি ঢুকেছে।

অন্যদিকে এসআই রাকিবুল হাসানের ব্যাংক হিসাবে তার বেতনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা জমা আছে। সেখান থেকে ওইদিন মাত্র ৫ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, যদি অন্য কেউ তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতো তাহলে পুরোটাই তুলে নিতো। এ কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হয়তো পুলিশের কাজের ধরন কিংবা চাপের কারণে হতাশ হয়ে এসআই রাকিবুল আত্মগোপনে থাকতে পারেন। এর আগে কাস্টমসে কাজ করতেন তিনি।

সূত্র : চ্যানেল২৪