প্রচ্ছদ জাতীয় সাদিক কায়েমের মেয়র প্রার্থিতার ইস্যুতে আব্দুল কাদেরের পোস্ট

সাদিক কায়েমের মেয়র প্রার্থিতার ইস্যুতে আব্দুল কাদেরের পোস্ট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়ায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। স্ট্যাটাসে তিনি সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক অবস্থান, ডাকসুতে ভূমিকা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে নানা প্রশ্নও তোলেন।

শুক্রবার দুপুর ৩টা ১৮ মিনিটে (১ মে) দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টের শুরুতেই কাদের লেখেন,‘সাদিক ভাইকে অভিনন্দন এবং শুভকামনা!’

পোস্টে তিনি লেখেন,‘ডাকসু পরবর্তীতে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থী এবং জনগণ নাকি চায়, তিনি সিটি নির্বাচন করুক আবার ডাকসু পরিচালনায় একটা মডেল স্থাপনের কারণে যেকোনো জায়গায় দাঁড়ালেই তিনি ভূমিধস বিজয় পাবেন বলে মিডিয়া বরাত জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে অভিনন্দন না জানিয়ে উপায়ন্তর দেখছি না। এমনিও জানাতাম।’

কাদের লেখেন,‘তার জুলাইয়ের আগের এবং পরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানান বিতর্ক আছে কিন্তু জুলাইয়ে যতটুকু ভূমিকা আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। আমিই মনে হয় সর্বপ্রথম সেটা প্রকাশ্যে এনেছি। অন্তত সেই ভূমিকার জন্য হলেও শুভকামনা জানাতে হবে তাকে।’

তবে পোস্টের পরবর্তী অংশে সমালোচনার সুর তীব্র হয়। কাদের অভিযোগ করেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় নিজেদের ‘অ-লেজুড়বৃত্তিক’ সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ হতাশ হয়েছে।

জামায়াত থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে কাদের লেখেন,‘জামায়াত থেকে সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দিছে দেখলাম। অথচ এই সাদিক ভাইরা ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেরদেরকে এই একটা জায়গায় আলাদা হিসেবে দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষকের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের কাছে কুৎসা রটিয়েছেন। জোর গলায় প্রচার করেছেন, তারা লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন না, বাকি সবাই লেজুড়বৃত্তি করবে আর মাদার পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে না। শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টা আসলেই আমলে নিয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন,‘কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেলো, ভিপি সাহেব হেলিকপ্টারে উড়ে জামায়াতের প্রোগ্রাম করতেছেন, দিনরাত নির্বাচনী জনসভা করে বেড়াচ্ছেন! তখন কিছু শিক্ষার্থী শক খাইলো- আয়হায় কইলো, লেজুড়বৃত্তি নাকি করবে না; তাহলে এখন এগুলা কি করতেছে!’

সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘এখন আবার জামায়াত থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে দেখে বাদবাকি নাদান শিক্ষার্থীরাও শক খাবে, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান, আবার এখনো মেয়াদ শেষ হয় নাই আর অ-লেজুড় ভিপিসাব তোড়জোড় শুরু করেছেন নিজের আর নিজ দলের আখের গুছানোতে!’

ফেসবুক পোস্টে কাদের লেখেন,‘ভিপির কাজ শুধু সারাদেশে হেলিকপ্টার দিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর মাঝেমধ্যে সময় পেলে ক্যাম্পাসে এসে ফ্রিজ-এসি উদ্বোধন করা কি না, সেটা নিয়ে হয়তো বিস্তর আলাপ হবে। তবে ক্যাম্পাসে একটা পলিটিকাল সেটেলমেন্ট হাজির করা যে ভিপি হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল এবং সেক্ষেত্রে তিনি যে পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, সেই বিষয়ে কারোরই দ্বিমত থাকার কথা না এবং শিবিরের সমর্থকদেরও না।’

সবশেষে তিনি লেখেন,‘ডাকসুর অভিজ্ঞতার পরে ঢাকা দক্ষিণের মানুষজন তার উপর আবারও আস্থা রাখবে কি না, জানি না। তারপরও জুলাইয়ের সালমান বর্তমান সাদিক কায়েমের জন্য শুভকামনা।’