
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আলোচনায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এখন অনেকটাই অন্তরালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবে তার উত্থান। অনেকে তাকে ওই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে অভিহিত করেন।
২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাহফুজ আলমকে পরিচয় করিয়ে দেন। সেসময় ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের কারিগর মাহফুজ। যদিও মাহফুজ সব সময় বলেন, সে একা নয়, আরও অনেকে আছেন।’ পরে মাহফুজ নিজেই জানান তিনি ‘মাস্টারমাইন্ড’ নন।
অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং পরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দুই মাস আগে তিনি পদত্যাগ করেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্রও তোলা হয়েছিল। প্রথমে বিএনপি, পরে এনসিপি থেকে নির্বাচন করার আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো দলেই যোগ দেননি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, আদর্শিক কারণেই কোনো দল বা জোটের অংশ হয়ে নির্বাচনে যাননি।
নির্বাচনের পর মাহফুজ আলম ‘অল্টারনেটিভস’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। গত ৬ মার্চ ১৭ সদস্যের জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এনসিপি ছেড়ে আসা অনেকেও এই দলে রয়েছেন। তবে দুই-একটি অনুষ্ঠানের বাইরে সংগঠনটির তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।
তবে অল্টারনেটিভসের সিনিয়র নেত্রী ডা. তাজনূভা জাবীন বলেছেন, ‘মাহফুজ আলম তার নিজের সংগঠনের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সারা দেশের সংগঠকদের খোঁজ-খবর রাখছেন। তিনি অবশ্যই রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হবেন।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তবে এখনই আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন কিনা, তা বলতে পারছি না।’
এসব বিষয়ে মাহফুজ আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।













































