প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার ২০ শতাংশ লাভের লোভে ফাঁদ, শেষমেশ ৫৪ লাখ টাকা খোয়ালেন সাবেক কর্মকর্তা

২০ শতাংশ লাভের লোভে ফাঁদ, শেষমেশ ৫৪ লাখ টাকা খোয়ালেন সাবেক কর্মকর্তা

চাকরি ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. তোফায়েল হোসেন ওরফে রতন (৬৮), মো. লিটন মুন্সী (৬০), মো. বাবুল হোসেন (৫৫) এবং মো. নুরুল ইসলাম (৩৯)।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি অভিযানিক দল তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, ১২টি সিম কার্ড, ৫টি মানি রিসিপ্ট, বিভিন্ন বিলের কাগজপত্র ও কিছু বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, প্রতারকরা প্রথমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে রাজধানীর একটি কথিত অফিসে ডেকে নেয়। এরপর তাকে ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ শতাংশ লাভ দেওয়ার আশ্বাসে মৌখিক চুক্তি করা হয়।

এই প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে মোট ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাও ফেরত দেয়নি চক্রটি। বরং আরও বিনিয়োগের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

এক পর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে সিআইডি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে।

সিআইডি জানায়, এই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে আসছিল। তারা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে চাকরি ও বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করত। রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় অফিস ভাড়া নিয়ে তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সর্বসাধারণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা উচিত। এছাড়া ফোন কল বা অনলাইনে প্রাপ্ত চাকরি ও ব্যবসায়িক প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।