
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার ওপর হামলা করে টেনে হিঁচড়ে বের করলেন বিএনপি।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকালে কলেজ অফিসে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কলেজের অধ্যক্ষকে কিছু লোক লাঞ্ছিত করছে। তার প্যান্টের বেল্ট ধরে টানাহেঁচড়া করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় তাকে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দেরকে অসহায়ভাবে এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এই বর্বরোচিত ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন সকাল ৯টার দিকে কলেজ অফিসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এসময় বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন এর নেতৃত্বে কয়েকজন লোক অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এসময় অধ্যক্ষের উপর হামলা চালায়। তারা অধ্যক্ষকে টেনে হিঁচড়ে অফিস থেকে বের করে বারান্দায় এনে কিলঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করে।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয় আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, বিএনপি কর্মী জলিল এবং জুয়েলের নেতৃত্বে বিএনপি কতিপয় ব্যক্তি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তারা অধ্যক্ষকে বের করে দিতে চেষ্টা চালায়।
এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। আদালত অধ্যক্ষের পক্ষে রায় দিয়ে তাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। বিএনপি নেতারা আদালতের এই রায় মেনে নিতে নারাজ।
অধ্যক্ষ বলেন, “তারা আমাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে বিএনপি নেতা নাজমুল হক বাদলের অফিসে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি বারবার বলেছি, আপনারা আমার অফিসে এসে কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে এটা কখনো কল্পনাও করিনি।
অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, “তারা এর আগেও আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।
এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষানুরাগীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন বাদলের মোবাইল ফোনে













































