
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত, আহত ২০
কক্সবাজারে সৈকতে ফেলে পর্যটককে বেধড়ক মারধর, আটক ২
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেগমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি জমিতে বসবাস করে আসছেন। ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিরোধের জের ধরে রোববার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে খলিলুর রহমানের পক্ষ বাধা দিলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে কলেজছাত্র মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২) এবং জুয়েল আহমেদ (৩২)। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। কিন্তু প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক আমাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছিল। আজ তারা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পুলিশ বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।













































