প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৪ ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা লুট, গ্রেপ্তার ২

যুবদল নেতার নেতৃত্বে ৪ ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা লুট, গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শাখাওয়াত হোসেন নামের এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে ট্রাক চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা (জৈব সার) লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে একটি খালি জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। লুট হওয়া জৈব সারের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মজল হক (৩০) ও মো. শাকিল (২৪)। তারা উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য। তার নেতৃত্বে এ লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকায় ৪টি ট্রাকের গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং ৪টি ট্রাক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে নিয়ে গিয়ে ট্রাকে থাকা ১ হাজার ৬৮০ বস্তা মুরগির বিষ্ঠা নামিয়ে নেওয়া হয়।অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রিপন হোসেন বলেন, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকার নাহার অ্যাগ্রো ফিড লিমিটেডের প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এসব মুরগির বিষ্ঠা কিনেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোম্পানির শেড থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। এর অংশ হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর চারটি ট্রাকে করে জৈব সারগুলো ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হচ্ছিল।পথে ট্রাকগুলো হাবিলদারবাসা এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক সেগুলোর গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেয়। পরে চালকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় নিয়ে গিয়ে শ্রমিকদের মাধ্যমে জৈব সার নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে চালকদের মোটরসাইকেলে করে সেখানে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে ২২ সেপ্টেম্বর জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়।

 

 

মামলায় নোয়াখালীর সুধারাম থানার জালিয়াল এলাকার আবির (২৮) ও কবির (৫০), মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্ব জোয়ার এলাকার বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ সাখা এবং নাজিম উদ্দিন রানা (৩৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়।

 

 

এ বিষয়ে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার নেতৃত্বে মুরগির বিষ্ঠা লুটের অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে; আমি কেন এসব ছোট বিষয়ে নজর দেব? ব্যবসায়ী রিপন নিজ থেকে মাঝে মধ্যে আমাকে খরচের টাকা দিত।

 

 

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে অভিযান চালিয়ে মজল হক ও মো. শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে