
রনি নিখোঁজ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার তাঁর ভাই যখন লালবাগ থানায় নিখোঁজের জিডি করতে যান, তখন অভিযুক্ত মাসুমও তাঁদের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তিন দিন ধরে রনির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অথচ তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, রনির মরদেহ তখন মাসুমের ইমিটেশন কারখানার নিচেই চাপা দেওয়া ছিল। মরদেহ যাতে সহজে খুঁজে পাওয়া না যায় এবং দুর্গন্ধ বের না হয়, সেজন্য আট বস্তা বালু-মাটি দিয়ে চাপা দেওয়ার পর তার ওপর সিমেন্টের আস্তরণ দিয়ে জায়গাটি পাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ থেকে। প্রায় পাঁচ মাস আগে রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা লভ্যাংশ বা সুদ দেওয়ার কথা থাকলেও মাসুম তা নিয়মিত পরিশোধ করছিলেন না বলে অভিযোগ।
ঘটনার দিন পাওনা টাকার বিপরীতে একটি সিকিউরিটি চেক নিতে মাসুমের কারখানায় যান রনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সেখানেই তাঁকে প্রথমে মাথায় আঘাত করে অচেতন করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাসুম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়—রনির রয়েছে তিনটি ছোট মেয়ে। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর স্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “মানুষের উপকার করা কি অপরাধ? টাকা দেওয়া কি অন্যায়? আমার তিনটা মেয়ে ভাই, এখন ওদের নিয়ে আমি কোথায় যাবো?”
একজন মানুষকে বিপদে সহযোগিতা করে টাকা ধার দেওয়ার পর যদি এমন নির্মম পরিণতি হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এ ধরনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে অন্যকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রেও কি ভয় তৈরি হবে?
ঘটনাটি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সতর্কতার গুরুত্বও সামনে এনেছে। পাওনা টাকা আদায় বা বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ, নিরাপদ স্থানে সাক্ষাৎ এবং নির্জন স্থানে একা না যাওয়ার মতো সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।












































