প্রচ্ছদ জাতীয় জুলাই আন্দোলন সফল না হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিণতি ভয়াবহ হতো

জুলাই আন্দোলন সফল না হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিণতি ভয়াবহ হতো

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স দলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবদুস সালাম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান সফল না হলে অনেকের হয়তো কিছুই হতো না, কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো। সে সময় আমাদের এমন নেতা বা কর্মী ছিলেন না, যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের গুলিতে মানুষ নিহত হলেও সেই ঘটনাগুলোর মামলাও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, যারা আজ নিজেদের জুলাই অভ্যুত্থানের নায়ক দাবি করেন, তাদের উচিত নিজেদের বিরুদ্ধে কতটি মামলা ছিল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছিল, সে হিসাব বিবেচনা করা। তার দাবি, তৎকালীন সরকারের পতন না হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ থাকত না।

ডিএসসিসির প্রশাসক আরও বলেন, বিএনপি কখনো শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলন করেনি; বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছে। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনে বিএনপি, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বিএনপির বিকাশ ঘটেছে। তাই আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় দলের নেতাকর্মীরা আরও দৃঢ় ও পরীক্ষিত হয়েছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, জনগণের ভোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। তবে এখনো বিভিন্ন মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে গণতান্ত্রিক ধারা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।

হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য হকার উচ্ছেদ নয়; বরং শৃঙ্খলার মধ্যে এনে তাদের জীবিকা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে নির্ধারিত স্থানে হকার বসানো, নাইট মার্কেট, সাপ্তাহিক ও হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মতিঝিল, গুলিস্তান, সদরঘাট ও নিউ মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

তিনি আরও জানান, নিবন্ধিত হকারদের আইডি কার্ড ও অস্থায়ী অনুমতিপত্র দেওয়া হবে, যাতে তারা চাঁদাবাজির শিকার না হন। পাশাপাশি মোবাইল টয়লেট, পরিচ্ছন্নতা, নির্ধারিত সময়ে ব্যবসা পরিচালনা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রিকশা চলাচলও ধাপে ধাপে শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।