
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। তার বিরুদ্ধে জারি করা ওই নোটিশে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে, যা গত বছরের এপ্রিল মাসে কার্যকর হয়। নোটিশে তাকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং একই সঙ্গে তার ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পলাতক’ হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
ইন্টারপোলের নোটিশে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তিনি বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়া এড়িয়ে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। তার পরিচয়, পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং মামলার প্রাথমিক বিবরণও নোটিশে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দুদকের তদন্তের বরাতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদ গোপনের চেষ্টা এবং অন্তত ২ কোটি ৮২ লাখ টাকার সম্পদ সম্পূর্ণভাবে আড়াল করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের তথ্যও উঠে আসে। এতে প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ আয়ের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর বিভিন্ন ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে, যার ভিত্তিতে তাকে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে শনাক্ত করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে ট্রানজিটে নামার পরই তার পরিচয় শনাক্ত হয় এবং পরে দুবাই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
যদিও এ বিষয়ে দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন করতে হয় এবং সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে এগোচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত প্রতিবেদন একত্র করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে।











































