প্রচ্ছদ জাতীয় কারিনা কায়সারের শেষ সময়ের অজানা গল্প

কারিনা কায়সারের শেষ সময়ের অজানা গল্প

লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার আগেও স্বাভাবিক থাকার লড়াই করেছিলেন তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। এমনকি কাউকে বুঝতেও দেননি কিছু। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার (১৫ মে) লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় তাকে।

ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। তবে মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সামনে আসছে তার শেষ সময়ের অজানা কিছু তথ্য ও দীর্ঘদিনের শারীরিক সংগ্রামের গল্প।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাইরে থেকে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত দেখালেও গত কয়েক মাস ধরেই শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন কারিনা। নিয়মিত কাজ, শুটিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে নিজের শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেননি বলেও জানিয়েছেন তার কাছের কয়েকজন।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, প্রথমদিকে পরিবারের কেউই বুঝতে পারেননি পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সাধারণ জ্বর ও দুর্বলতা থেকেই ধীরে ধীরে জটিলতা বাড়তে থাকে।

জানা গেছে, শুরুতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় চিকিৎসকরা তার শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ দেখতে পান। পরবর্তী পরীক্ষায় হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সংক্রমণের কারণে তার শরীরে বিষক্রিয়ার মাত্রা দ্রুত বাড়ছিল। এতে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তচাপও অস্বাভাবিক ওঠানামা করছিল।

চিকিৎসকদের ধারণা, শেষ মুহূর্তে ‘সেপ্টিক শক’-জাতীয় জটিলতাও তৈরি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকরা প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দ্রুত অকার্যকর হতে শুরু করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কারিনা কায়সারের বাবা কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যায়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকরা তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তিনি আর সাড়া দেননি।

হাসপাতালসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, শেষ কয়েক ঘণ্টায় তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের মতো বড় চিকিৎসা পদ্ধতি চালানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, তার শরীর সেই ধকল সহ্য করতে পারবে না।

কারিনার ঘনিষ্ঠ এক সহকর্মী জানান, কাজের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন তিনি। অসুস্থতার মধ্যেও অনেক সময় কাজের চাপ কমাননি। এমনকি অসুস্থ হওয়ার কয়েকদিন আগেও নতুন কিছু কনটেন্ট ও চিত্রনাট্যের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও ইতিবাচক কনটেন্টের মাধ্যমে অল্প সময়েই তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী ও ভক্তদের অনেকেই লিখেছেন, ক্যামেরার সামনে সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটি যে ভেতরে ভেতরে এত বড় শারীরিক যুদ্ধ লড়ছিলেন, তা কেউ বুঝতেই পারেননি।