প্রচ্ছদ জাতীয় হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার প্রস্তাবেও তেলের দামে দুঃসংবাদ

হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার প্রস্তাবেও তেলের দামে দুঃসংবাদ

ইরান হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিলেও বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত রাখার শর্তে তেহরানের এমন প্রস্তাবেও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম। ফলে হরমুজ প্রণালি সচল হওয়ার পথ খুললেও তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা (জিএমটি) পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১১১.৪৯ ডলার, যা গত মঙ্গলবারের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি, সেদিনই শেষবারের মতো এই সূচক ১০০ ডলারের নিচে ছিল।

সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার প্রস্তাব দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থবির শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব সামনে আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

গত দুই মাস ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ডের তথ্যানুসারে, গত রোববার মাত্র ৮টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৯।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। অন্যদিকে গোল্ডম্যান স্যাকসের এক হিসাব বলছে, অবরোধ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে বৈশ্বিক তেল উৎপাদন দৈনিক ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল কমে গেছে।

শিপিং ও লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তারা বলছেন, তেল ও গ্যাসের জমে থাকা কার্গো, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং প্রণালি থেকে ইরানি মাইন অপসারণের মতো বিষয়গুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বিলম্ব ঘটাবে।

সূত্র: আল জাজিরা