প্রচ্ছদ জাতীয় কথাগুলো বলতে চাইনি, তবে ওরা আমার মুখটা বন্ধ রাখতে দিল না

কথাগুলো বলতে চাইনি, তবে ওরা আমার মুখটা বন্ধ রাখতে দিল না

আশরাফ উদ্দিন এর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়াঃ
সাইফুদ্দীন ইয়াহিয়া, (যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)
সাবেক রাবি সেক্রেটারী ও সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এর কলাম🖋️

রাজশাহী কোর্ট এবং জেলখানাই যেন আমার জীবনের বড় বিশ্ববিদ্যালয়। জেল থেকে কোর্ট, কোর্ট থেকে আবার জেলখানা। কিংবা কোর্ট থেকে ১৫৬ দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫৭ দিনের রিমান্ড। কত ঘটনা কত কিছু জীবনকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই ।

ওরা বলে আমি নাকি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন বানচাল করে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছি ।তাই ওরা আমাকে গ্রেফতার করল রিমান্ড দিল, যাবজ্জীবন সাজা দিল আরো কত কিছু করল। তবুও এখনও আমি নির্বাচনের গিনিপিগই রয়ে গেলাম।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন শিবির করাই এখন অপরাধ আর এ কারণে জামিন পাইলেই আপনাকে ক্রসফায়ার দেবে ওরা। একটা মানুষের এভাবে মৃত্যু হোক তা আমি চাই না ।তাই আপনাকে জামিন দিতে পারছি না। বেশি জোরাজুরি করলে হাইকোর্টে যান।

জীবনের শেষ ঠিকানার শান্তনা হিসেবে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা গায়েবী সাহায্যের জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা। গ্রেপ্তার সে যেন সাক্ষাৎ মৃত্যু। ক্রসফায়ারের জন্য ওরা অনেকবার দাঁড় করিয়েছে। জীবনের শেষ নিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুর চোখে চোখ রেখেছি। কিংবা চোখ বাধা অবস্থায় জীবনের শেষ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছি এখনই শেষ। তখন শুধু মনে হয়েছে আস্তাগফিরুল্লাহ আর কালিমা শাহাদতই আমার জীবনের চূড়ান্ত সফলতা। এই কালিমা শাহাদত সহ যদি আমি মৃত্যুবরণ করি তাহলে নিশ্চিত আমি ক্ষমা পেয়ে জান্নাতে যাব ইনশাল্লাহ। আমি জানি এবং বিশ্বাস করি মৃত্যুর শৈল্পিক সৌন্দর্যই হচ্ছে শাহাদাত। আমি জানি শাহাদতের অমিয় পেয়ালা আসে হীমলোক পানের মধ্য দিয়ে কিংবা ফাঁসির দড়িতে ঝুলার মাধ্যমে। এই চরম আরাধ্যটা শুধু আল্লাহর জন্যই ।

আসাবিয়াতের কনটেক্স থেকে বলছি আইনজীবীসহ সকল দায়িত্বশীল ও সময়ের সহযোদ্ধারা আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। ওই কঠিন সময়ও আপনাদেরকে পাশে পেয়েছি হয় লড়াইয়ের ময়দানে নয়তো শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে। আল্লাহ যেন সবাইকে উত্তম জাযাহ দান করেন।

আরো অনেক কথা বলার ছিল কিন্তু বলতে পারলাম না। কতজন সাক্ষাৎকার চেয়েছে কিন্তু এই কথাগুলো বলতে চাইনি। তবে ওরা আমার মুখটা বন্ধ রাখতে দিল না। এখনো বেশিরভাগ কথাগুলো গোপনই থাক ।