
সন্দেহজনক খাদ্যে বিষক্রিয়ায় একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন ৪০ বছর বয়সী স্বামী, ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী এবং তাদের দুই কিশোরী কন্যা। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাই শহরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের ফাইদোনিয়া এলাকায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে আত্মীয়রা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তবে গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ওই চারজন সদস্য তরমুজ খান।
পরদিন ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে তাদের মধ্যে হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। অনবরত বমি, ডায়রিয়া এবং শারীরিক দুর্বলতা। প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ভর্তি করা হয় জেজে হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ছোট মেয়েটির মৃত্যু হয় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। এরপর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মারা যান পরিবারের কর্তা। পরবর্তীতে স্ত্রী ও বড় মেয়েও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃতদের পরিচয় হচ্ছে আবদুল্লাহ দোখাদিয়া (৪০), নাসরিন দোখাদিয়া (৩৫), আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩)। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। হিস্টোপ্যাথোলজিক্যাল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্ত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিরিয়ানি খাওয়ার পর তরমুজ খাওয়ার সঙ্গে এই খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে, আরেকটি ঘটনায় ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডিহ জেলায় দূষিত ‘ফুচকা’ ও ‘চাট’ খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত খাবার বা পানীয় গ্রহণের ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে, যার উপসর্গ হিসেবে বমি, ডায়রিয়া, বমিভাব ও পেটব্যথা দেখা দেয়। তাই খাবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
খবর এনডিটিভির।












































