প্রচ্ছদ জাতীয় এনসিপিতে যোগ দিয়েই নির্বাচনের ঘোষণা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফির

এনসিপিতে যোগ দিয়েই নির্বাচনের ঘোষণা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়ে আসন্ন কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এমন ঘোষণায় উপকূলের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে নতুন চমক থাকা ভালো বলে মনে করছে তরুণ ভোটাররা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফি বলেন, এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি এবং আসন্ন কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি মাঠে নামছি।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন কাফি। তার ভিডিওতে সামাজিক সমস্যা, ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা এবং সচেতনতামূলক বার্তা থাকায় দ্রুতই তিনি আলোচনায় আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন স্বৈরাচার পতন জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায়।

রাজনীতিতে তার এই হঠাৎ আগমন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে স্থানীয়দের মধ্যে। কেউ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে তরুণদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে থাকবেন বলেও অনেকেই মনে করছেন।

কলাপাড়ার বাসিন্দা মো. মতিউর রহমান বলেন, তরুণরা রাজনীতিতে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অভিজ্ঞতাও জরুরি। কারণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া রাজনৈতিক মাঠে সুফল বয়ে আনা যায় না। তাছাড়া এটা একটি উপকূলীয় এলাকা, এখানের অধিকাংশ মানুষ জেলে এবং কৃষক। তাই তাদের জন্য কাজ করবে এমন নেতা নির্বাচন করবে সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে কলেজশিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, কাফি ভাই সামাজিক মাধ্যমে সব সময় নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেন, এটা তার ভালো একটি দিক। তাছাড়া তিনি জুলাই আন্দোলনের একজন সামনের সারির যোদ্ধা। বরিশালে তিনি একনিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার ফেইসবুকের আহ্বানের মাধ্যমে হাজারো তরুণ রাস্তায় নেমে এসেছিল। তাই আমি মনে করছি, তার নেতৃত্ব দেওয়ার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। আশা করি, তিনি জনগণের পাশে থাকবেন।

এ বিষয়ে এনসিপির স্থানীয় কর্মী জুবায়ের হোসেন জানান, তরুণ ও জনপ্রিয় মুখদের রাজনীতিতে যুক্ত করতে দল কাজ করছে। কাফির যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও আমরা আশাবাদী। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমরা নুরুজ্জামান কাফির জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব। তবে এখনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরই প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নুরুজ্জামান কাফির এই ঘোষণার পর কলাপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কলাপাড়ার প্রবীন সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু। তিনি বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে, তবে গ্রহণযোগ্যতার একটি বিষয় রয়েছে এখানে। কারণ এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জেলে, কৃষক, শ্রমিক এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির। প্রবীন ভোটারদের তুলনায় তরুণ ভোটার তুলনামূলক কম। মূলত কাফির সাথে পরিচিত বা কাফির বেশিরভাগ ভোটার হতে পারে তরুণরা বলে আমি মনে করছি। তবে, নারী এবং প্রবীণ ভোটারদের নিজের দিকে টানতে কাজ করতে হবে তার। তাছাড়া এই উপজেলায় বিএনপির একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে বর্তমানে।

এ বিষয় সদ্য যোগদানকৃত (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই আজ আমি এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি। নতুন করে এনসিপিতে যোগদান করার মাধ্যমে আমি আমার রাজনৈতিক পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দলটির আদর্শ, উন্নয়ন ভাবনা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আমি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নয়, বরং আমাদের এলাকার উন্নয়ন, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, সুশাসিত উপজেলা গড়ে তোলার স্বপ্ন থেকেই নেওয়া। আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন আমরা সবাই একসাথে কাজ করি। আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া ও সমর্থন থাকলে ইনশাআল্লাহ। আমরা আমাদের উপজেলাকে একটি উন্নত, নিরাপদ ও আধুনিক জায়গায় পরিণত করতে পারব।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট