
গণভোটের প্রচারণায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা নেয়ার বিষয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন দেন।
রিফাত রশিদ জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাত দিনের প্রচারণার জন্য ‘সেড ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনকে এক কোটি টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই প্রদান করেছে।
অর্থের অপব্যবহার বা তথ্য গোপনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া শর্ত মেনেই খরচ করা হয়েছে। এছাড়া এই খরচের যাবতীয় হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত অডিট ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করানো হয়েছে। সেই অডিট রিপোর্ট বা নিরীক্ষা প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে রিফাত রশিদ বলেছেন, গণভোট নিয়ে সারাদেশে প্রচার চালাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বড় পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। সে পরিকল্পনায় ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন’, অনলাইন প্রচার, কনসার্ট, লিফলেট, ক্যারাভ্যান এবং ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেয়ার উদ্যোগ ছিল। এজন্য তহবিল গঠনের চেষ্টা করতে করতে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে বিভিন্ন ব্যাংকে ঘুরতে ঘুরতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যাই। আমাদের প্রস্তাবগুলো দিই। দেয়ার পর সেটা একসেপ্ট হয়। বড় ফান্ড দেয়ার কথা ছিল এবং আমরা নেশন ওয়াইড বড় ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা করেছিলাম।
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটির জন্ম হয়েছে ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংক যেহেতু নিবন্ধনবিহীন কোনো সংগঠনকে তহবিল দেবে না, তখন স্যাড নামে একটা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। সেই ফাউন্ডেশনে সিনথিয়াও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি গণভোটের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না এবং দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে হঠাৎ সরে দাঁড়ান। তাকে যদি ফাউন্ডেশনে রাখা হয়, তাহলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন বলেও আমাদের জানান। পরবর্তী সময়ে তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশনের রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়।
তিনি বলেন, ১৫ দিনব্যাপী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকা প্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে ভোটের আগে সময়স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজিস্টারকৃত সেড ফাউন্ডেশনকে ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করে। এরপর আপনারা জানেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সারা দেশব্যাপী ৭ দিন গণভোটের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। গণভোটের প্রচারণার সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়। এবং সেই অডিট রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।
সিনথিয়াসহ কয়েকজন বৈছাআর সাবেক নেতাদের বিতর্কিত ও হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন বলে দাবি করেন রিফাত। তিনি বলেন, আমরা এসব মিথ্যা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। দুদকসহ যদি কোনো তদন্ত সংস্থা উক্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করতে আগ্রহী হয়, তাহলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কাছে সংশ্লিষ্ট হিসাবের সব প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে গণভোটের প্রচারের জন্য পাওয়া অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন রিফাত রশিদ।












































