
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ফাঁসিতে ঝুলে ইসমত আরা (২৩) নামে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের গুনারীতলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তবে নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় এবং হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি করে লাশ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
নিহত ইসমত আরা ওই এলাকার সাবেক প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী এবং মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ি নামাপাড়া এলাকার ইউনুস আলীর মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে ইসমত আরার সঙ্গে নুর ইসলামের বিয়ে হয়। ইসমতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী নুর ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। সম্প্রতি ইসমত আরা পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন, কিন্তু বারবার বলার পরেও স্বামী তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেননি। এই অবহেলার জেরে অভিমান করে বুধবার সকালে তিনি নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
গৃহবধূকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তারা চিকিৎসকের কাছে ফাঁসের বিষয়টি গোপন করে ‘পেটে ব্যথার’ কথা বলেন। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশে খবর দেওয়ার উদ্যোগ নেন। পুলিশের নাম শুনেই স্বামী ও স্বজনরা দ্রুত হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যান। পরে খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেজাবীন রশিদ তিন্নী জানান, নিহতের গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী নুর ইসলাম পলাতক রয়েছেন, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।











































