
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তুহিন নামে এক তরুণকে সন্দেহের তালিকায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তার সম্পৃক্ততা এখনো পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে তুহিনের মা প্রশাসন ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন, জুমার নামাজের পর খাবার খেয়ে বাইরে যাওয়ার পর তুহিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোন করে তাকে বলেছিল, “আম্মু টেনশন করো না, কাজ সেরে দ্রুত আসছি।” পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে আসায় পরিবারও স্বাভাবিকভাবে তাকে ঘরে নিয়ে গেট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে সিভিল পোশাকে ডিবি পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে তুহিনের ঘর থেকে একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো একটি আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। মায়ের দাবি, ফোনটি তিনি স্পর্শও করেননি।
তুহিনের মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতিতে তুহিন দাবি করে ফোনটি সে তার ভাইয়ের কাছে রেখেছিল। পরে ফোনটির কল হিস্ট্রি, মেসেজ ও কন্টাক্ট লিস্ট পুলিশ পরীক্ষা করেছে বলেও তিনি জানান।
তুহিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, স্কুলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝগড়ার পর পড়াশোনা ও পরীক্ষা ছেড়ে বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিল সে। পরিবারের বক্তব্য, তুহিন দোষী কি না—সেটি আবেগ বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হোক।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আইফোনসহ বিভিন্ন আলামত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং আইফোনটির ভূমিকা কী—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
তুহিনের মায়ের বক্তব্যের শেষ কথাও ছিল—একটি পরিবার যেমন সন্তান হারানোর কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, তেমনি তাদের পরিবারও এখন সন্তানকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে রয়েছে। সত্য যেন আড়াল না হয় এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে—এটাই তাদের দাবি।











































