
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর না করলেও দিল্লির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পথ খোলা রাখছে ঢাকা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
সম্ভাব্য এই সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
দুই সরকারপ্রধানের বৈঠক হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য ও পানি বণ্টনের মতো দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি আগামী মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে ভারতের আমন্ত্রণে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকা সেই সফর থেকে সরে আসে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে; বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। ঢাকার অবস্থান ছিল, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপক্ষীয় কোনো অনুষ্ঠানের অংশ না হয়ে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত।
হুমায়ুন কবির আরও বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ অনুকূল হলে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। এ জন্য তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে গত দুই বছরে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি প্রযোজ্য আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য, পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ও দুই দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে সেটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
তবে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা হয়নি। তাই সফরের তারিখ, আলোচনার এজেন্ডা কিংবা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য দুই দেশের সরকারি ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।













































