বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

ভাইরে ভাই! নিজের দলের মন্ত্রীদেরই ধু-য়ে দিলেন স্পিকার…Seemore

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটে মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরলভাবে দুঃখপ্রকাশের প্রশংসা করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তবে বিদ্যুৎ না থাকা ও লোডশেডিং নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত নোটিশের ওপর আলোচনার শেষে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৬৮ বিধিতে নোটিশটি উত্থাপন করে বিরোধী দল।

কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে শোনা যায়, ‘তার লম্বা, এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেছে।’ এ ধরনের ব্যাখ্যার পরিবর্তে সমস্যাটি পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।

অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

৬৮ বিধিতে দেয়া নোটিশের ওপর বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন।

আলোচনার শেষে ডেপুটি স্পিকার বিদ্যুৎ মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দুঃখপ্রকাশ করেন। বাট আনফরচুনেটলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যারা থাকেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সেই জিনিসটা সেভাবে অ্যাড্রেস করেন না। আমরা হাম্বলি রিকোয়েস্ট করবো, জাতির সামনে যদি প্রকাশ করেন এবং ক্লিয়ার রাখেন, তাহলে ভালো হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই জিনিসটাকে অ্যাড্রেস করেন, সাবমিসিভ ওয়েতে অ্যাকনলয়েজ করেন, দুঃখপ্রকাশ করেন। আর মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি- তার লম্বা, এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেছে।

৬৮ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেয়া নোটিশে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, দেশে তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শহর ও গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।

তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছেন। উৎপাদন ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় এই সংকট মোকাবিলা, শিল্প-বাণিজ্য রক্ষা এবং বেকারত্ব রোধে সরকারের পদক্ষেপ ও করণীয় নির্ধারণে বিষয়টি সংসদে অবিলম্বে আলোচনার দাবি জানান তিনি।

গত ২৭ আগস্ট দেয়া এই নোটিশে শফিকুর রহমানের সঙ্গে নোটিশদাতা হিসেবে রয়েছেন আরও পাঁচ সংসদ সদস্য। তারা হলেন- গাজীপুর-৪ আসনের সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মো. রুহুল আমিন, খুলনা-৬ আসনের মো. আবুল কালাম আজাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের মো. মাহবুবুল আলম এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনের মো. কামরুল হাসান।

ইসলামী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

Oplus_131072

সংসদে শরিয়াহবিরোধী আইন পাস হয়েছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দাবিতে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। একই বিষয়ে শরিয়াহ ও সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করবে তারা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

সভায় মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করতে রাষ্ট্র বাধ্য। বর্তমান সরকারও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে নির্বাচনের আগে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে আইনটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে দলটি।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং যুগসেরা ওলামায়ে কেরাম রয়েছেন। এ আইনের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম আগেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সেখানে শরিয়াহ-সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে শরিয়াহবিরোধী আইন প্রণয়ন করা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞানীয় সম্পদের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা।

এ ধরনের পদক্ষেপ সরকারের কাছ থেকে আশা করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসূচি ঘোষণা করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আগামী শুক্রবার দেশের সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শরিয়াহ ও দলের অবস্থান জানাতে আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মুফতি আহমদ আব্দুল জলিল, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মোমেনশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা প্রভাষক মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার, কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

লং মার্চের পর অবশেষে মেনেই নিলেন জামায়াতের আমির…Seemore

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে তিনি বলেছেন, সরকার সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলেও জনগণের দুর্ভোগ দিন দিন কমছে না, বরং বাড়ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের বিষয় ছিল তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের এবং ধারাবাহিকভাবে চলে আসা সমস্যা পুঞ্জীভূত হয়ে এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশ সবার, তাই দেশের সংকট সমাধানে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে মূলত তিন ধরনের গ্রাহক রয়েছেন। বড় একটি অংশ হলো ডোমেস্টিক বা গৃহস্থালি গ্রাহক, যারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়টি হলো কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক গ্রাহক। আর তৃতীয়টি হলো তুলনামূলকভাবে বিশেষায়িত ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাহক, যারা শিল্প খাতে রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, গত তিন বছরে এ সংকটের কারণে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, এসব কারখানার ৪০০ বা তার বেশি উদ্যোক্তা, কিংবা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা ঋণখেলাপি হয়েছেন। একজন ঋণখেলাপি হলে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক থেকেও নতুন করে ঋণ নিতে পারেন না। ফলে তার পুরো ব্যবসার চাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
আরো বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, গত তিন বছরে এ সংকটের কারণে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, এসব কারখানার ৪০০ বা তার বেশি উদ্যোক্তা, কিংবা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা ঋণখেলাপি হয়েছেন। একজন ঋণখেলাপি হলে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক থেকেও নতুন করে ঋণ নিতে পারেন না। ফলে তার পুরো ব্যবসার চাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

‘এর সাথে লাখ লাখ শ্রমিকের বিষয়টি জড়িত। যখন জ্বালানির অভাবে কারখানার উৎপাদন কমে যাবে-সম্প্রতি এর একটি উদাহরণ দেয়া যায়। বিজিএমইএর বর্তমান কমিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে তাদের উদ্বেগ ও দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে বর্তমানে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।’

জামায়াত আমির বলেন, উৎপাদন যদি ৫০ শতাংশে নেমে আসে, তাহলে কারখানাগুলো বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। ক্রেতারাও দীর্ঘদিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে না; তারা বিকল্প উৎস খুঁজে নেবে। একবার তারা অন্য উৎসে চলে গেলে আবার ফিরে আসাটাও সহজ নয়। এ কারণে আমরা একদিকে রপ্তানি হারাচ্ছি, অন্যদিকে শিল্পকারখানা চালাতে না পারায় মালিকদের বাধ্য হয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় তা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এমনকি নাম উল্লেখ না করেই বলতে চাই, এই সংসদেও অনেক শিল্প উদ্যোক্তা বা মালিক রয়েছেন, যারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারাও নিজেদের কারখানা থেকে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন। এটি তাদের ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয়; বরং একান্ত অপারগতার কারণে তারা কারখানা চালাতে পারছেন না। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শিল্প খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
এর উত্তর হলো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় উৎপাদন করতে পারছে না, সরবরাহও করতে পারছে না। তারা কেন পারছে না? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছে তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে। কিন্তু তাদের হাতে সেই অর্থ তুলে দেয়া যাচ্ছে না। তারা যদি টাকা না পায়, তাহলে উৎপাদনের চাকা চালু রাখবে কীভাবে? তাদের অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে? স্বাভাবিকভাবেই এখানে একটি বড় প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে। এই ৫৯ হাজার কোটি টাকা গত ছয় মাসের হিসাব নয়। অতীত থেকে চলে আসা বকেয়া ক্রমাগত জমে এর পরিমাণ এত বড় হয়েছে।’

‘আমাদের জ্বালানি উৎপাদনের মূল উৎস হলো গ্যাস। এরপর রয়েছে তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এছাড়া আমাদের ছয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে বড়পুকুরিয়া নিজেদের উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সেখানে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কয়লা উত্তোলন হয়। আমরা দেখেছি, বিগত সরকারের সময়ে সেখান থেকে হাজার হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। এর কোনো জবাবও পাওয়া যায়নি-কোথায় গেল সেই কয়লা? যেহেতু সেখানে অতিরিক্ত কয়লা রয়েছে, সেটি দিয়ে অন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যাকআপ দেয়া যায় কি না, সে বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না, কিংবা এ নিয়ে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা কারিগরি সমীক্ষা হয়েছে কি না-তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’

বিরোধীদলের এই নেতা বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা মূলত দুটি উৎস থেকে গ্যাস পেয়ে থাকি। একটি হলো দেশিয় উৎস, অন্যটি আমদানি করা গ্যাস। একসময় আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ, আর ৮০ শতাংশ আসত দেশিয় উৎস থেকে। কিন্তু এখন আমদানি নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। এর কারণ হলো, আমাদের গ্যাসকূপগুলো এখন আগের মতো চাপ বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। আবার নতুন কূপ থেকে গ্যাস আহরণ ও উত্তোলনের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, সেটিও দীর্ঘদিন নেয়া হয়নি।’

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরার পরিকল্পনা হাসিনার!

আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের নেতাদের বরাত দিয়ে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতের পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নেতা আব্বাস চৌধুরী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেখ হাসিনা নয়া দিল্লিতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে তার দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করবেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ।

গত রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। আমাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হতে পারে। তবুও দেশের মানুষের স্বার্থে আমাকে ফিরতেই হবে।’

আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতার সঙ্গে কথা বলে ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত দলটির প্রায় ৬০ জন নেতা ইতিমধ্যে কলকাতায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি অনলাইনে দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।

আব্বাস চৌধুরী দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নেতারা ডিসেম্বরের আগেই কলকাতায় তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরবেন।

বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তারা বিদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের নিয়ে দেশে ফেরার জন্য চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করবেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে ফেরার কথা বলেছেন, তাই তিনি ফিরবেন। আমাদের ভাগ্যে যা-ই থাকুক না কেন, আমরাও ডিসেম্বরের মধ্যে তার সঙ্গে ফিরতে চাই।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরার কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে ফিরতেই হবে। নিশ্চয়ই নেত্রীর কোনো পরিকল্পনা আছে। তার নির্দেশই আমাদের জন্য চূড়ান্ত।’

সরকার হাসিনাকে ফিরতে দেবে কি না কিংবা ভারত তার প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা করবে কি না—তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছে এবং বিশ্বের নেতাদের কাছে তা পৌঁছেছে। তারা বলেন, দলের কয়েকটি টিম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। শেখ হাসিনা নিজেও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা ও সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তারা আরও জানান, বাংলাদেশ যদি তার প্রবেশে বাধা দেয়, তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি যেখানে অবস্থান করছেন সেই নয়া দিল্লিতে ফিরবেন না। বরং তিনি পশ্চিমবঙ্গে থেকে যাবেন এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘১৯৮১ সালেও শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফিরেছিলেন। এবারও তিনি ফিরবেন।’

তিনি আরও বলেন, যেসব নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার নির্দেশ মানবেন না, তারা দলে থাকতে চান না বলেই ধরে নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দিল্লি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তিনি নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার এবং আজমিরে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ জিয়ারত করার পরিকল্পনা করছেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট দিল্লিতে পালিয়ে যান হাসিনা। শুরুতে চুপ থাকলেও পরে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন, অনলাইনে সভা করেন এবং দিকনির্দেশনা দেন।

এরপর থেকে তিনি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

দিল্লিতে তার এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, যার ফলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা ইস্যুটি সামনে চলে আসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও ভারত সফর স্থগিত করেন।

শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে শেখ সেলিম দলের নেতৃত্ব দেবেন—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে অন্তত ছয়জন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন যে, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠতম সদস্যই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। কাজী জাফরউল্লাহ, আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান ও শাহজাহান খান কারাগারে রয়েছেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও খায়রুজ্জামান চৌধুরী লিটন বাংলাদেশের বাইরে আছেন।

দলীয় নেতাদের মতে, হাসিনার অনুপস্থিতিতে দেশে অবস্থানরত জ্যেষ্ঠতম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেবেন। দলটি একজন মুখপাত্রও নিয়োগ দেবে।

মৃ’ত্যু ছাড়া কেউ আমাকে সরাতে পারবে না, রাতেই বিএনপি নেতার মৃ’ত্যু

চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করেছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন।

গণসংযোগের সময় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ছিল, শেষ পর্যন্ত হয়তো তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতাকর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে খোকন বলেন, ‘আমার মৃত্যু ব্যতীত কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’

গণসংযোগ শেষে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শরীরে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাইফুল ইসলাম খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজান।

সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ফজরের নামাজের পর মসজিদের মাইকে তার মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হলে শুহিলপুরসহ আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। আকস্মিক এ মৃত্যুতে নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ ছাত্রদল সভাপতির

মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তিনি। ছাত্রদল সভাপতি লেখেন, ‘ইতালির ভেনিসে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘একজন নারী তথা জুলাই যোদ্ধাকে বিদেশের মাটিতে একা পেয়ে এ ধরনের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের সামান্যতম অনুশোচনা হয়নি। সেহেতু এ সন্ত্রাসীদের জন্য আমাদের মনেও কখনও সামান্যতম সহানুভূতি জাগ্রত হবে না। কঠোর হাতে দমন করা হবে, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় অবিস্থিত একটি পার্কে ভাই ও ভাগ্নেকে নিয়ে হাঁটতে গেলে এই হামলার শিকার হন আজমেরী হক বাঁধন। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীরা এই অভিনেত্রীর গায়ে হাত তোলছেন। শুধু তাই নয়, সেসময় কোক-পানি ছুঁড়ে মারা হয় তাঁর গায়ে। এমনকি জোরপূর্বক নানা কথা বলিয়ে, আক্রমণকারীরা সেসবের ভিডিও ধারণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইতিহাসে প্রথমবার ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। গত ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়। আর সেই আয়োজনে যোগ দিতেই সম্প্রতি ভেনিসের উদ্দেশে উড়াল দেন সিনেমাটির মুখ্য চার নারী চরিত্র—জাইনীন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও আজমেরী হক বাঁধন।

নতুন দুই দায়িত্ব পেলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও পিটিশন @কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি অনুসরণ করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।

এদিন সংসদ-নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটিগুলোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার পিটিশন কমিটি গঠন করেন।

কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৬৪ বিধি অনুযায়ী ১২ সদস্যের কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে।

কমিটির সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম মনি, মো. আসাদুজ্জামান, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সাকিলা ফারজানা, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও আখতার হোসেন।

সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৩১ ও ২৩২ বিধি অনুযায়ী নাগরিকদের পিটিশন পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ সদস্যের পিটিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতিও হয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

কমিটির সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নূরুল ইসলাম মনি, এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), রকিবুল ইসলাম, এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাহিদ ইসলাম ও মো. রফিকুল ইসলাম খান।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না ভারত, ঢাকাকে জানানো হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্তের কথা ঢাকাকে জানিয়েছে ভারত—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে গ্রেপ্তার হলে তাঁর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও ঢাকার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস আগে ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং এ বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো ধরনের অসম্মানজনক আচরণ করা উচিত নয়। তিনি দেশে ফিরে আটক হলে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সরকারকে আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারত কোনো অবস্থাতেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করবে না। তবে শেখ হাসিনা কবে এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এর আগে শেখ হাসিনা নিজেও আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধও করা হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার কয়েকজন সন্দেহভাজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বিগ্ন বলে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন এই দাবি সামনে এলো। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

‘কীসের আবার বাচ্চা’, ইতালির পার্কে যেভাবে বাঁধনকে হেনস্থা

ইতালিতে জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা শিশুর কথা বলে আকুতি জানালেও আক্রমণকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘কীসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা হাওলাদার মনিরুলের একটি ভিডিও শেয়ার করেন বাঁধন। ভিডিওতে দেখা যায় বাঁধনকে দেশদ্রোহী, জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তার ওপর ডিম নিক্ষেপ করতে বলছেন আক্রমণকারীরা।

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্থার সেই ভিডিওতে দেখা যায়, আক্রমণকারীরা বাঁধনের গায়ে হাত তুলছে আর বলছে, এরা জুলাই জঙ্গি। এরাই দেশটাকে ধ্বংস করেছে। এরা যেখানেই থাকুক, তাদেরকে আমরা উচিত শিক্ষা দিব।

জানা যায়, ইতালির ভেনিসে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তার ভাই ও ভাইয়ের পরিবারের সাথে সেখানে গেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

উল্লেখ্য, ইতিহাস গড়ে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ২টায়, বাংলাদেশ সময় ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

সিনেমাটির মুখ্য চার নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও আজমেরী হক বাঁধন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।

মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করলেন শিবির নেতা এস এম ফরহাদ

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় ও কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার পাকস্থলী ওয়াশের পর তিনি শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ফেসবুকে সুইসাইড নোট দেখার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি দ্য বলেন, ‘মেঘমল্লার বসু দাদার পোস্ট দেখেই ফেসবুকে খোঁজ নেওয়া শুরু করি। সম্ভাব্য সব জায়গায় কথা বলেও তার সন্ধান পাচ্ছিলাম না। তবে পরে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে তাকে পাওয়া গেছে।’

সেখান থেকে দ্রুত তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসায় অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার পাকস্থলী ওয়াশ করেন চিকিৎসক। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তিনি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’

এর আগে ফেসবুকে একটি সুইসাইড নোট পোস্ট করেছেন মেঘমল্লার বসু। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শুন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হইত। একটা ২০২০ সালের গোঁড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্মেন্ট সাইন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শুন্যতাই তার নিয়তি।’

আরও লিখেছেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মা’র সাথে। আমি জানি তার আর কেউ নাই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব!

কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

মেঘমল্লার লিখেছেন, ‘আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হল আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয় নাই, যতটা উনি দিসেন। আমার গত এটেম্পটের পর সবাই ভাবসে দোষ উনার। উনি একটা ভিলেনে পরিণত হইসেন। অথচ বাস্তবতা হল আমি উনাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করাইসি, তাতে উনার দশ বার এটেম্পট করার কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘উনি আমার জন্য শুধু করেই গেসেন, কিছুই পান নাই। উনি যে কষ্ট আমার থেকে পাইসেন, তা আর এক ছটাকও বাড়লে আমার অনেক পাপ বাড়বে। এখনও উনি উনার মাকে নিয়ে একটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে আছেন। আমার অবস্থা নিয়ে উনাকে কেউ কিছু বললে বা মনে করলে শুধুই আমার পাপ বাড়বে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার বন্ধুরা, সহযোদ্ধারা সবার কাছে আমি ঋণী ও পাপী। আমি অবশ্য আমার ব্যক্তিজীবনের প্রোটেকশানটা পাই নাই, আমার রাজনৈতিক পরিসর থেকে। সে সব কথা থাক। আর বলে কী হবে। বাবার ব্যাংকের কী যেন একটা লোন আছে। ওইটা কেউ একটু শোধ করে দিয়েন। হুদাই আমার চিকিৎসা করাইতে গিয়ে টাকা খরচ কইরেন না কেউ। আমারে পারলে বাবার পাশে সমাধি দিয়েন।’

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...