
ইনস্টাগ্রামে পরিচয়, এরপর কয়েক মাসের কথাবার্তা থেকে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কক্সবাজারে দেখা করতে আসেন তাজমিন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যায় রহস্যজনক ঘটনা। এরপর থেকে তাজমিনের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন তার প্রেমিক রাজু।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে পরিচয়ের পর প্রায় তিন থেকে চার মাস কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন পারিবারিক ঝগড়ার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলেন তাজমিন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রাজুর সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রাজু জানান, রাতে বাসে রওনা দিয়ে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছান তাজমিন। সেখানে গিয়ে তিনি তাজমিনকে রিসিভ করেন। এরপর তারা একটি কক্ষে একদিন অবস্থান করেন। পরে তাজমিনের মোবাইল ফোনে তার বাবা-মায়ের একাধিক কল আসতে থাকলে রাজু তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন।
রাজুর দাবি, পরদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেন তিনি। কুমিল্লা পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের মধ্যে ফোনে কথা হচ্ছিল এবং লাইভ লোকেশনও শেয়ার করা ছিল।
রাজু বলেন, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাকে জানান, বাড়িতে গিয়ে দেখেন মূল ফটক বন্ধ এবং তার বাবার ফোনও বন্ধ। তখন রাজু তাকে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে এবং অন্য কারও ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তবে তাজমিন তাকে জানান, এক বন্ধুর বাবার সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং তিনি বন্ধুর বাসায় রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফিরবেন। পরে ভিডিও কলে তাজমিনকে একটি সিএনজিতে উঠতে দেখে রাজু তাকে নেমে বাড়ির সামনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাজমিন কল কেটে দেন এবং লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাজমিন মেসেজ দিয়ে তাকে চিন্তা না করতে বলেন এবং এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কথা জানান। পরদিন সকালেও তাদের কথা হয়। সে সময় ভিডিও কলে কথা বলার মধ্যে এক ব্যক্তি তাজমিনকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কার সঙ্গে কথা বলছেন। তাজমিন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানান। এরপর কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাজুর দাবি, এরপর থেকে তাজমিনের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। পরদিন বিকেলে তাজমিনের এক বন্ধুর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। রাজুর বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয়েছিল যে তাজমিনকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা, কীভাবে এবং কোথায় তার মৃত্যু হয়েছে, কিংবা এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য প্রয়োজন।
তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য কী, আর শেষবার যোগাযোগের পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল—তা জানতে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।










































